রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মার্চে সারাদেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ২,২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী রয়েছেন ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সংগঠনটির পাঠানো প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একই সময়ে নৌ পথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। রেলপথে ঘটেছে ৪৮টি দুর্ঘটনা, যেখানে ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে—মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৯৪ জন, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন, বাসের যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক‑পিকআপ‑ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-পাখিভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার স্থান অনুযায়ী বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—জাতীয় মহাসড়কে ১৭১টি, আঞ্চলিক সড়কে ২৬৪টি, গ্রামীণ সড়কে ৭০টি, শহরের সড়কে ৬২টি এবং অন্যান্য স্থানে ৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরনে সবচেয়ে বেশি ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ ১৬৬টি এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৩১টি; এছাড়া পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনার সংখ্যা ৮৬টি এবং পেছনে ধাক্কা/টাকা পুরো ঘটনার সংখ্যা ৮২টি।
এক সময়ের মধ্যে মোট ১,০০৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। টেনে ধরা হয়েছিল—বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকার যানবাহন ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেট কার ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, পাজেরো জিপ ৮টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি, পিকআপ ৪১টি, ট্রাক্টর ১৬টি, ড্রাম ট্রাক ১৬টি, ট্রলি ৬টি, লরি ৭টি, সাইকেল ১৫টি, অ্যাম্বুল্যান্স ২টি, পর্যটন জিপ ২টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩২টি।
অঞ্চিতরতার ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে—১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে—২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত। রাজধানী ঢাকায় গত মাসে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনটি দুর্ঘটনার ধরণ, জড়িত যানবাহন ও অঞ্চলভিত্তিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তুলেছে।














