দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান হাসপাতাল হিসেবেও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের ব্যবস্থাপনায় তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। পৃথক কোনো ডায়রিয়া ওয়ার্ড না থাকায় বাধ্য হয়ে নারী ও পুরুষ রোগীরা একসঙ্গে ছোট একটি ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে, যার ফলে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সদর ঘাঁটিতে সরেজমিনে দেখা যায় টিনশেড নির্মাণের এক কোণে মাত্র চারটি শয্যা নিয়ে একটি ডায়রিয়া ওয়ার্ড আছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, যাদের মধ্যে আট থেকে দশজনের মতোই নারী। শয্যার সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় অনেক রোগীকেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
নারী রোগীরা জানান, পুরুষ রোগীদের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতে গেলে মানসিকভাবে অস্বস্তি হচ্ছেই, যেখানে প্রাইভেসি বজায় থাকে না। কাশিপুর ইউনিয়নের ৩৫ বছর বয়সী নার্গিস আক্তার বলেন, ‘‘বাধ্য হয়েই ভর্তি হয়েছি। শয্যার দুই পাশে পুরুষ রোগী থাকায় খুবই অস্বস্তিকর।’’ আরেক রোগী সালমা বলেন, ‘‘নারীদের জন্য আলাদা দফতর বা আলাদা ওয়ার্ড থাকা উচিত। এভাবে চিকিৎসা নেয়া মানেই পর্দারও পরিপন্থী।’’ অনেক সময়ই রোগীরা বাধ্য হয়ে শয্যার চারপাশে কাপড় টাঙিয়ে অস্থায়ী পর্দা বানান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ কাগজেই রয়ে গেছে এবং পূর্বপাশে নির্মাণকাজ থাকা ১২ তলা ভবনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। ফলে রোগী ধারণক্ষমতা বাড়াতে তৎপরতা নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘‘প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রয়োজনীয় শয্যা ও আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় নারী-পুরুষ একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন; এমনকি অনেক সময় মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হয়।’’
রোগী এবং অভিভাবকরা দাবি করছেন দ্রুত আলাদা নারী-ওয়ার্ড ও পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা করা হোক, যাতে চিকিৎসার মান এবং রোগীদের আরাম-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ না হলে এই সমস্যা ক্রমশই গভীর আকার নিতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করেন।














