ঢাকা | রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বন্ধ এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, গ্রাহকের চরম ভোগান্তি

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নতুন করে সমন্বয় এবং ডিলারদের ওপর প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যার ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের খুচরা ও পাইকারি বাজারে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। অনেক এলাকায় সিলিন্ডার পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে, আর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে বিক্রেতারা সাধারণ দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি মানা না হয়, ততক্ষণ এই অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মূলত দুইটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত এলপিজির বর্তমান মূল্য পুনঃমূল্যায়ন ও সমন্বয় করা, যাতে এটি খুব দ্রুত ও বাস্তবসম্মত হয়। দ্বিতীয়ত, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ডিলার ও বিক্রেতাদের ওপর চালানো অযৌক্তিক জরিমানা ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। ওই সময়সীমা পার হওয়ার পরে, গতকাল বুধবার রাত থেকেই দেশের সকল পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, একই সঙ্গে সকল কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে নতুন করে এলপিজির উত্তোলনও স্থগিত রাখা হয়েছে।

এনায়রিগেটরি সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানিয়েছেন, আজ বিকেল ৩টায় বিইআরসির সঙ্গে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে তাঁদের দাবি মানা হলে, তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ফের বিক্রি শুরু করবেন। অন্যথায়, এই কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্ধারিত দামে ব্যবসা চালানো তাঁদের জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে, এবং প্রশাসনের কড়াকড়ি তাঁদের ব্যবসা করে টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলেছে।

অন্যদিকে, সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শহরের ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দা ও ছোট-বড় রেস্তোরা মালিকরা রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বিপাকে পড়েছেন। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকারি তদারকি না থাকায় এবং ব্যবসায়ীদের অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ সময় জিম্মি হচ্ছেন। অনেকেই খালি সিলিন্ডার নিয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে উপায় খুঁজলেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, এবং সবাই দ্রুত এই সংকটের সমাধান চান। আজকের বিকেলের বৈঠকের ফলাফলের ওপর সব দেশের নজর কেন্দ্রীভূত হয়েছে।