ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মাঠ প্রশাসনে নারীর শক্ত অবস্থান: ২০ জেলায় ডিসি, ১৯১ উপজেলায় ইউএনও

মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে নারীদের উপস্থিতি এখন স্মরণকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২০টিতে নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) দায়িত্বে আছেন এবং ৪৯৯টি উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে মোট উপজেলা পদের প্রায় ৩৯ শতাংশই বর্তমানে নারীদের দখলে।

বিভাগীয় ভিত্তিতে দেখা গেলে ঢাকা বিভাগে অবস্থান সবচেয়ে বেশি; বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে ৯টিতেই নারী ডিসি রয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রামে তিনজন, রংপুরে দুইজন এবং রাজশাহী ও বরিশালে একজন করে নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন।

মাঠ প্রশাসনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও নারীরা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় কাজ করে এমন ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের মধ্যে ১১৬ জন নারী, যা মোটের প্রায় ২৪ শতাংশের বেশি। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাঠ স্তরের মোট ১,০৮৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৩২ জনই নারী, অর্থাৎ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মীদের প্রায় ৩০.৬ শতাংশ নারী।

বিভাগীয় পর্যায়ে বর্তমানে ১৮ জন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যে পাঁচজন নারী। তবে প্রধান বিভাগীয় কমিশনারের কোনো পদে এই মুহূর্তে কোনো নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন না। সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৩০ শতাংশ পদে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্বে রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েও নারীদের উপস্থিতি খেয়াল করার মতো। দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮৮টি সচিব বা সচিব-সমমান পদে ১৫ জন নারী আছেন। এছাড়া ৩৬১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৭৩ জন নারী, ১,০৫১ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ২৪৯ জন নারী, ১,৬৪৩ জন উপসচিবের মধ্যে ৪০৪ জন নারী এবং ৩,৩৫০ জন সহকারী ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৮৬ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি প্রশাসনে নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বগুণের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক যুগ্ম সচিব মন্তব্য করেন, ‘১০ বছর আগেও রাঙামাটির বাঘাইছড়ির মতো দুর্গম উপজেলায় নারী ইউএনও দেখা যায়নি; তখন এমন পদে নারীদের নিযুক্তি নিয়ে দ্বিধা থাকত। এখন নারী কর্মকর্তা দু’দিক থেকেই সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন, ফলে এমন নিয়োগে আর দ্বিধা নেই।’

জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তারা এই উন্নয়নকে উদযাপনের মতো অর্জন হিসেবে দেখেছেন। মাঠ পর্যায়ের সেবা গ্রহণকারীরাও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আজাফার আলী জানান, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সহযোগিতায় তার পরিবারের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি দ্রুত ও সুব্যবস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের নামে অধিগ্রহণ হওয়া জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমরা প্রায় ২০ লাখ টাকা পেয়েছি। জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতায় পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হয়েছে।’

এ럼ধ্যে এই অগ্রগতি সত্ত্বেও শীর্ষ পর্যায়ের সব পদে নারী প্রতিনিধিত্ব এখনও সমপূর্ণ নয়। বিশিষ্ট পদগুলোতে নারী নিয়োগ আরো বাড়াতে নীতি, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে—তাতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য ও জনগণের প্রতি সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।