ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ‘ফাস্ট‑ট্র্যাক কোর্ট’ ঘোষণা দিলেন মোদি, দ্রুত ন্যায়বিচয়ের প্রতিশ্রুতি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘ফাস্ট‑ট্র্যাক কোর্ট’ গঠন করা হবে। বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র–যুব আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় মোদি লেখেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট‑ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের তরুণদের ভাল রাখা এবং তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কিছুই এর চেয়ে বড় নয়।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা অনাচার করবেন, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে আগে এনডিএ সংসদীয় দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে মোদি এই ধরনের ঘটনায় ‘মহাপাপ’ শব্দও ব্যবহার করেছিলেন; আর বিতর্ক চলার পর এবার তিনি সরাসরি কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলেন।

ঘটনাচক্রে, অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ৬ জুন থেকে যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনের সমর্থনে হাজারো শিক্ষার্থী রাজপথে নামে এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ অনশন শুরু করেন। গত সোমবার পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপে এক শৃঙ্খলাভঙ্গপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়; পুলিশ সতর্ক করা ও বলপ্রয়োগের ধরণ নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) সেই কড়া পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে এবং বলীয়ান সমাধানের বদলে আলোচনা করে পরিস্থিতি মেটানো উচিত বলে মন্তব্য করেছে। তবে আরএসএস শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এই উত্তেজনা কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তবু যন্তর মন্তরের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বুধবার রাতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন সংঘর্ষের খবর আসে; সেখানে পাথর নিক্ষেপ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ অনেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ও পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। ফাস্ট‑ট্র্যাক কোর্ট ঘোষণাটি কি এই তীব্র অভিমতের টানাপোড়েন, তদন্ত ও দণ্ডপ্রক্রিয়া দ্রুততর করতে পারবে—তার উপর এখন সমগ্র নজর কেন্দ্রীভূত।