ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তাঁর বাবা এবং পূর্বসূরিদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ‘‘অবশ্যম্ভাবী’’. গত বৃহস্পতিবার মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে বাবার দাফনের দুই দিন পর এটাই তার প্রথম প্রকাশ্য বার্তা।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি লিখিতভাবে শুক্রবার স্বাক্ষরিত ছিল এবং তা শনিবার তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে। লেখায় তিনি বলেছেন, এই প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা কেবল তার বা বর্তমান প্রশাসনের ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, এটি ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের সঞ্চিত চাওয়া এবং সেটি ‘‘অবশ্যম্ভাবীভাবে’’ পূরণ হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘‘বাবা হত্যার প্রতিশোধ নেবই।’’
মোজতবা খামেনি আরও বলেছেন, এই প্রতিশোধ কেবল তার ব্যক্তিগত অস্তিত্ব বা সরকারের অন্য কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়। তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা বেঁচে থাকি বা না থাকি, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রতিশোধ একদিন নেওয়া হবেই।’’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে একটি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, এবং মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর গত বৃহস্পতিবার মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফন করা হয়।
বাবার জানাজায় মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে তার শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহর জানাজার দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর তিন ছেলে মোস্তফা, মেয়সাম ও মাসুদকে নামাজের অগ্রভাগে দেখা গিয়েছে। ওই বিশেষ জানাজায় ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররাও উপস্থিত ছিলেন।
মার্চে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় জমায়েতে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যমে প্রচ্ছন্নভাবে গুরুত্ব পেয়েছিল। তারপরও বাবার দাফনের দুই দিন পর তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে প্রতিশোধের অঙ্গীকার আবারো জোরদার করলেন।














