কুড়িগ্রামে পুশইনের শিকার হয়ে প্রায় এক বছর বাংলাদেশে থাকা চার ভারতীয় নাগরিককে বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং বিজিবি কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত দেয়া চারজনের মধ্যে আছেন এক নারী, এক যুবক, এক কিশোর ও একটি শিশু। নিজ দেশে ফিরতে পেরে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পেছনের সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারই থানার ছয় জনকে কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি পরিচয়ে পুশইন করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন দুই নারী, দুই শিশু ও দুই পুরুষ। পরে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্রয় নেয়।
গত বছরের ২০ আগস্ট সদর থানা পুলিশ শহরের আলীনগর এলাকা থেকে তাদের আটক করে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠায়। ঘটনাটি পরিবেশিত হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করলে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারক স্থানীয় জিম্মাদার ফারুক হোসেনের জিম্মায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন এবং তার শিশু সন্তানকে সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ গ্রহণ করলেও তার স্বামী ও বাকি চারজনকে তখন গ্রহণ করা হয়নি এবং তারা বাংলাদেশেই থাকেন।
অবশেষে প্রায় এক বছর পর বাকি চার জনকেও বুধবার ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হলো। স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেবে বলে আশা ব্যক্ত করা হয়েছে।














