ঢাকা | মঙ্গলবার | ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সৌদি অভিযানে ১২ হাজার ২৯২ অবৈধ অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে

অবৈধ অভিবাসন রোধে সৌদি আরবের চলমান ব্যাপক অভিযান আরও তীব্র করে চালানো হচ্ছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে আরও ২৭ হাজার ৪৪৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে; তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৪১২ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৩ জন নারী। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বহিষ্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৬ হাজার ৯১২ জনকে ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ১৭৪ জনের জন্য বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত ওই যৌথ অভিযানে মোট ১৫ হাজার ৫৯১ জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৫৯ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে, ৪ হাজার ৪৮৮ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে এবং ৩ হাজার ৩৪৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক রয়েছেন।

অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সৌদিতে প্রবেশের সময় ১ হাজার ৬২৯ জনকে আটক করা হয়েছে; তাদের বেশিরভাগের জাতীয়তাই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় ৫৮ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, পরিবহন সুবিধা দেওয়া বা চাকরির ব্যবস্থা করার অভিযোগে ১৭ জন ব্যক্তিরও গ্রেপ্তার হয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তা করা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বা যানবাহন বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, সৌদি ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বহিষ্কার অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযানের আপডেট প্রকাশ করবে এবং অভিবাসীদের আইন মেনে চলার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।