ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাশেদ খান: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চাই, দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না

বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বজনক সম্পর্ক রাখতে চাইলেও কোনোভাবে দেশকে দাদাগিরি বা আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৮ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে দেশকে ‘‘ভারতের করদরাজ্যে’’ পরিণত করা হয়েছে, তাই বাংলাদেশ চীনের মতো উন্নত হতে পারেনি।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান বলেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই। কিন্তু ভারতের দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে এবার বিজিবি সাহস ফিরিয়ে নিয়েছে। “বিজিবি এখন সীমান্তে চোখে চোখ রেখে জবাব দিচ্ছে। বিএনপি সরকার গেলে সীমান্তে এমনই দৃঢ়তা থাকবে—আমরা কোনো দেশের দালালি করব না,” রাশেদ খানের মন্তব্য ছিল।

রাশেদ খান বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ করে বলেন, যারা এখন বলছে বিএনপি ভারতীয় দালালি করছে, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তার যুক্তি, যদি বিএনপি ভারতের দালাল হত, তাহলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ চীনের পরিবর্তে প্রথমে ভারতের সফর করতেন।

সামনে থাকা বিরোধী নেতা ও দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি আক্রমণাত্মক ছিলেন। রাশেদ বলেন, “জামায়াতের, এনসিপির নেতারা এখন সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন। ১৭ বছর ধরে তাদের দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলতে পারেননি, বড় বড় কথা বলছেন।” তিনি সংসদীয় বিরোধী নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি বাস্তবে দেখাতে হবে—“হাসনাত আবদুল্লাহ ইউনুস সরকারের সময়ে সরকারি বরাদ্দ তার এলাকায় নিয়ে গেছে, এটা কি দুর্নীতিই নয়?”

পুশইন ইস্যু প্রসঙ্গেও রাশেদ খান বিজিবির কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি বদলেছে, বিজিবি এখন সাহস নিয়ে কথা বলছে এবং জবাব দিচ্ছে। সর্বশেষ মন্তব্যে তিনি বলেন, “বিএনপি কোনো দেশের দালালী করে না—না ভারতের, না পাকিস্তানের।” এক প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, “আজ শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা পাকিস্তানে গিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা নিয়ে এসে বিএনপিকে ‘ভারতের দালাল’ বলে—তাহলে আপনারা (শিবির-জামায়াত) কি পাকিস্তানের দালাল?”

রাশেদ খানের এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান ও পূর্বের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে, দেশের স্বাধীন ও সমমানসম্পন্ন কূটনীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।