ঢাকা | শুক্রবার | ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অতীত নয়, বর্তমান নরওওয়েই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা

ফিফা বিশ্বকাপ কোয়ার্টারফাইনালের উচ্চচাপে নরওয়ে—ইউরোপের এই দল—পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে মোকাবিলা করতে নামছে। সেলেসাওদের জন্য ভৌতিক এক ইতিহাস মুছে ফেলা জরুরি: আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্রাজিল এখনও নরওয়েকে হারাতে পারেনি। দুই দলের চারটি বৈষম্যপূর্ণ মুখোমুখি ম্যাচের দুটি নরওয়ের জয় আর দুটি ড্র—এই রেকর্ডই ব্রাজিলিয়ানদের মাথায় রেখেই এখন রণনীতি তৈরির কথা।

তবে শুধু পুরনো পরিসংখ্যানেই সমস্যা নেই। ব্রাজিলের প্রধান উদ্বেগ এখনকার নরওয়ের কাঠামো—একটি যুগান্তকারী ‘‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’’ যাদের একই সঙ্গে খেলা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দলের সামগ্রিক মানকে অনেকখানি ঊর্ধ্বমুখী করে দিয়েছে। গত তিন দশকে নরওয়ের ফুটবলে ধীরে ধীরে ঘটে যাওয়া উন্নয়ন এখন ফল বয়ে আনছে এবং সেটাই ব্রাজিলের প্রকৃত ঝাঁকুনি।

ও গ্লোবো সংবাদপত্রের ফুটবল কলামিস্ট কার্লোস এদুয়ার্দোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৯০-এর দশকের রক্ষণাত্মক নরওয়ে থেকে বর্তমান দলটি অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দ্রুত ও আধুনিক। সেই সঙ্গে ভিন্ন পরিবেশ—এবার ম্যাচ হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে গরম ও উচ্চ তাপমাত্রা ম্যাচের দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতীব স্মরণীয় ১৯৯৮ সালের ফরাসি গ্রীষ্মের সন্ধ্যার সেই ম্যাচের পরিবেশ এখনকার পরিস্থিতি থেকে দুর্বল মনে হতে পারে।

ইতিহাসে 1997 ও 1998 সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের দুটি জয় ছিল কোচ এগিল অলসেন বা ‘ড্রিলো’র নিখুঁত কৌশলের ফল। তখন নরওয়ে সামগ্রিকভাবে ভর করে শক্তিশালী রক্ষণ ও দ্রুত উইং-ভিত্তিক কাউন্টার অ্যাটাকে। আজকের দলটিও কৌশলে কিছুটা মিল রাখলেও হামলার গতি, প্রযুক্তি ও ব্যক্তিগত সক্ষমতা অনেক বেশি উন্নত।

৩০ বছর আগের সেই আক্রমণের প্রধান শক্তি ছিলেন টোরে আন্দ্রে ফ্লো—তিনি ব্রাজিলের বিপক্ষে দু’ম্যাচে তিনটি করে গোল করেছিলেন এবং তার উচ্চতা ও শারীরিক শক্তি ছিল বড় একটা দিক। কিন্তু এখনকার দলের আক্রমণভাগে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক গোল করছেন এবং বর্তমান ফর্মে বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

হালান্ডের পাশাপাশি মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্দার সোরলোথ, অ্যান্টোনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো খেলোয়াড়রা নরওয়ের আক্রমণকে আরও বহুমুখী ও বিপজ্জনক করে তুলেছেন। এই কল্পনাপ্রসূত আক্রমণভাগের এক-একজন খেলোয়াড়ও একজন বিশ্বমানের ডিফেন্ডারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে; ড্রিবল, ওয়ান-অন-ওয়ান ও দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণে তাদের সক্ষমতা পুরোনো নরওয়ের তুলনায় অনেক সামনে।

ব্রাজিলিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য তার অভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল দল দিয়ে মোকাবিলা করার উপায় খুঁজছেন। তবে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে—কেস্রি সাম্বা জাদু কি হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে যে নর্ডিক ঝড় তুলেছে তা থামাতে পারবে? পুরো ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষায়, কোয়ার্টারফাইনালের মাঠেই জানা যাবে ব্রাজিলের সামনের পথ অতীতের ভয় না বর্তমান নরওয়ের তাণ্ডবের সামনে কতটা পরিষ্কার।