ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাক্কায় আটে নেমে গেল বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক টেস্ট হোয়াইটওয়াশ করে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে চড়াই উঠেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মে মাসে পাকিস্তান সফরে ২-০ সিরিজ জেতার পর প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠে আসে টাইগাররা এবং রেটিং পয়েন্টও পৌঁছেছিল ৭৮-এ। কিন্তু সেই উল্লাস আর স্থায়ী হয়নি—ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে হারের ফলে এক ধাক্কায় আবারও নামতে হয়েছে তাদের।

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই শুরু হয় বাংলাদেশের বিপর্যয়। ম্যাচের প্রথম দিনেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা, প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে দাঁড়ায় মাত্র ১৪০ রানে। এরপর জিম্বাবুয়ে নির্মাণ করে বিশাল ৪১০ রানের বড় সংগ্রহ, ফলে বাংলাদেশ ২৭০ রানে পিছিয়ে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারো ব্যাটিং ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পেরে দল সংগ্রহ করে ১৮৫; ফলশ্রুতিতে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারে বাংলাদেশের লজ্জাজনক পরাজয় নিশ্চিত হয়।

টপঅর্ডার থেকে মিডলঅর্ডার—সকল স্তরেই ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হন। উইকেট হারানোর ধারা থামাতে না পেরে যেন খেলোয়াড়দের মধ্যেই অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছোঁয়া ছিল, এবং সেটিই দলের পরাজয়কে দ্রুততর করে তোলে।

এই হার বাংলাদেশের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০০১ সালে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একই ধরনের পরাজয় ভোগ করেছিল বাংলাদেশ; দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও সেই দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি হল।

এই এক ম্যাচের পরাজয়ে বাংলাদেশ ৫ রেটিং পয়েন্ট হারায়। পাকিস্তান সফরের পর যেখানে তাদের রেটিং ছিল ৭৮, সেখানে এখন টাইগারদের ঘরে আছে ৭৩ পয়েন্ট—ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নেমে গেছে অষ্টম স্থানে। অন্যদিকে, কোনো ম্যাচ না খেলেই পাকিস্তান ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে পুনরায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে।

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এই অপ্রত্যাশিত হারের ফলে বাংলাদেশের টেস্ট ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন পাওয়া যায়। বিশেষত ঘরের মাঠে এমন ধাঁচের ধস দলের পরিকল্পনা ও ব্যাটিং গভীরতা সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো উন্মোচিত করেছে। উন্নতির জন্য দ্রুতই কাঠামোগত পরিবর্তন ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, নয়তো টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে লাফানো সেই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে।