জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় মঙ্গলবার (২৫ জুন) ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি সংরক্ষিত সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে কিছু মানুষ নিজস্ব সহজলভ্য স্বার্থ অর্জন করছেন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবাই জুলাই যুদ্ধ করেছি—আমি নিজে, এখানে যারা আছেন তাদের অনেকেই, এবং আমাদের সন্তানরাও। কিন্তু যুদ্ধ না বিক্রি করলে আমরা কেন বিক্রি করি? জুলাই চেতনা বিক্রি করা যায় না, আমরা জুনই—জুলাইকে ধারণ করি।’’ তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো বেচাবিক্রি করা বস্তু নয়।
সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে আক্তারুজ্জামান কিছু ব্যক্তির আচরণকে কটাক্ষের ভাষায় উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘আমি তাদের কাছে প্রশ্ন করতে চাই—আগে কী চড়তেন, এখন কী চড়েন? আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন। কোথায় থাকেন, মাঝে মাঝে লাইভ করেন, একটু লাইভ করলে জাতি দেখবে—এই আচরণই বলছে তারা কীভাবে বিপ্লবের আবেগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন।’’
তিনি বলেন, এই আকস্মিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে সম্প্রতি কেউ কেউ রাজনৈতিক ইতিহাসকে নিজের সুবিধামত পুঁজি করছেন। এই ধরনের ব্যবহার জাতির প্রতি অনুতপ্ত হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাজেট সম্পর্কে আক্তারুজ্জামান বলেন, এবারে প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের মূল্য কমানো হয়েছে এবং কেবল মদ ও সিগারেটের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। বিরোধীরা বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা বাজেট’ বলে সমালোচনা করলে তিনি হালকা রসিকতা করে বলেন, ‘‘আমরা শুনেছি চানাচুর বাচ্চারা খায়, আবার বড়রাও কখনো করে—কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে।’’
শেষে তিনি দাবি করেন, সরকারের এই জনবান্ধব বাজেট সাধারণ মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছে এবং বাজেট আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দেশের অর্থনৈতিক চিত্রের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। সংসদে তার বক্তব্যে মিলিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক আবেগের সংবেদনশীলতা বজায় রেখে জাতির স্বার্থে কাজ করার আহ্বানও করেন।













