ঢাকা | বুধবার | ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র একদিনের ব্যবধানে কারাগারে যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার একদিনের ব্যবধানে যুবলীগ নেতা মো. নুরুল আলম (৩৮) নামে এক জনের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান। নিহত নুরুল আলম সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের বলা অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নুরুল আলমকে আটক করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করে। সেখানে থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং আদালতের আদেশে ওই দিনই তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, স্থানীয় জমি নিয়ে প্রতিবেশী আরিফদের সঙ্গে নুরুল আলমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে ডিবি পুলিশকে দিয়ে তাকে দমন-নির্বাসনে বাধ্য করেছে বলে তারা দাবি করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রতিপক্ষের লোকজনের আনন্দ-উল্লাস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট পরিবারের সন্দেহ ও ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। থানায় আনার পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। আমাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।’’ তিনি আরও বলেছেন, গ্রেপ্তারের ফলে নুরুল আলম মানসিকভাবে ট্রমা পেয়ে থাকতে পারেন, আর সেটিই সম্ভাব্য স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে কারাগারে আনা হলে থেকেই নুরুল আলম নিজেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন। পরবর্তীতে বুধবার সকালে তিনি মারা যান।

একজন রাজনৈতিক নেতার গ্রেপ্তারের স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন মৃত্যু ঘটায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত ময়নাতদন্ত ও দোষীদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের কাছ থেকেও সম্পূর্ণ ঘটনাচক্র সম্পর্কে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ তদন্তের উদ্যোগ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।