ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্পেনের পর উরুগুয়েকেও রুখে দিল লড়াকু কেপ ভার্দে

২০২৬ বিশ্বকাপে আবার এক লড়াকু রূপকথা লিখে দিল আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গ্রুপ এইচ-এর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে কেপ ভার্দে ২-২ গোলে শক্তিশালী উরুগুয়েকে আটকে রাখলো, বাধা হয়ে উঠল নকআউট রেসে। স্পেনের বিপর্যয়ের পরে এবার উরুগুয়েও তাদের সামনে জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই উরুগুয়ে фавারিট হিসেবে চাপ সৃষ্টি করলেও প্রথম সুযোগটি ভাঙল কেপ ভার্দে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া কেভিন পিনারের নিখুঁত ফ্রি-কিক সরাসরি জালে জড়ালে কেপ ভার্দে সামনে আসে। এই গোলটি তাদের জন্য বিশ্বমঞ্চে প্রথম গোলের মর্যাদা বহন করছিল—একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

তবে প্রথমার্ধের শেষভাগে উরুগুয়ে ম্যাচের নাটক ঘুরিয়ে দেয়। ৪৪তম মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো গোল করে সমতা ফেরান এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পাঁচমিনিটে (৪৫+৫) আগুস্তিন কানোপিওর দুর্দান্ত শটে উরুগুয়ে বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

বিরতির পর উরুগুয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে, জয় নিশ্চিত করতেই তাদের সকল চেষ্টা। কিন্তু কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ দুর্দান্তভাবে সেই আক্রমণগুলো সামলাতে থাকে এবং প্রতিআক্রমণে বড় ঝুঁকি নিয়ে যায়। ম্যাচের ৬১তম মিনিটে সেই প্রতিআক্রমণই ফল দেয়—হেলিও ভারেলার শ্বেতসুন্দর ফিনিশিংয়ে স্কোর লাইন ২-২ হয় এবং উরুগুয়ের আক্রমণ থমকে যায়।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ২-2 গোলে শেষ হয়। শেষ বাঁশি পর্যন্ত উভয় দলই কিছু সুযোগই নষ্ট করলেও আর কোনো গোল হয়নি। কেপ ভার্দের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ এক দাবি—স্পেনের পর উরুগুয়েকে আটকে রেখে তারা গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল।

এই ড্রয়ের অর্থ গ্রুপ এইচ-এর চিত্র এখন আরও জটিল। দুই রাউন্ড খেলে স্পেন শীর্ষে চার পয়েন্ট নিয়ে আছে, আর উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে দু’টি করে পয়েন্ট নিয়ে ওরা क्रमিকভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে—উরুগুয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে। সৌদি আরব এখনও পয়েন্টশূন্য তালিকায় নীচে আছে। কেপ ভার্দের জন্য এটি বড় অর্জন—বিশ্বকাপে শক্ত প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ও লড়াই দেখিয়ে তারা নজর কাড়ছে, এবং নকআউট রেসে নিজেদের সুযোগ ধরে রাখল।