ঢাকা | সোমবার | ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রাথমিক স্বাস্থ্যে সংস্কার: চার বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করবে সরকার

সরকার দেশের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা শক্তিশালী করতে ‘প্রাইমারি হেলথ নেটওয়ার্ক’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চার বছরের মধ্যে এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেয়া হবে বলে রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান।

ড. হায়দার জানান, নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে মিডওয়াইফ স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হবে। এছাড়া দেশজুড়ে বর্তমানে অর্ধকোটি নয়—চালানো ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিককে আধুনিক ‘স্বাস্থ্য হাব’ এ রূপান্তর করে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে; ভবিষ্যতে আলাদা নামে মেয়াদী কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক থাকবে না।

এই কর্মসূচির পাইলট হিসেবে খুলনা, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়া জেলা প্রথম ধাপে বেছে নেয়া হয়েছে। সফলতা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে অন্যান্য জেলাতেও কর্মসূচি প্রসার করা হবে বলেও তিনি জানান।

অর্থায়ন সম্পর্কে ড. হায়দার জানান, আগামী একনেক সভায় ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে এডিবি এবং বাকি ৩০ মিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে। পাশাপাশি দেশের সকল নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে; এর প্রাথমিক কার্যক্রমও প্রথমে ওই পাঁচটি জেলায় শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হামের টিকা কার্যক্রম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির জন্যই হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সত্যি এবং পরিষ্কার। এর জন্য আলাদা করে তদন্ত করার প্রয়োজন নেই।”

সরকার মনে করছে, সার্বজনীন ও আধুনিক এই প্রথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে জনগণের দরজায় পৌঁছে সেবা পাওয়া সহজ হবে এবং দেশের গ্রাম-শহরের স্বাস্থ্যসেবা আরও ব্যাপক, দ্রুত ও কর্মদক্ষ হবে।