ঢাকা | শুক্রবার | ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তেলের দাম কমায় চাঙ্গা এশীয় শেয়ারবাজার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক শান্তি চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা কমায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কয়েক দিনের উত্থান-পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে নামেছে। এশিয়ার লেনদেন শুরু হতেই বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। গ্রিনউইচ মান সময় রাত ২টা পর্যন্ত আগস্ট সংবলিত ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৪৩ ডলারে পৌঁছায়, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দামের তুলনায় মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সতর্কবার্তা তেলের বাজারে সাময়িক উত্থান এনে দিয়েছিল—ব্রেন্টের দাম ওই সময় ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারের ঊর্ধ্বে ওঠে। ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান আচরণ উন্নত না করলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে পরবর্তীতে দুই পক্ষের অস্থায়ী সমঝোতা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ বাজারকে শান্ত করতে সহায়ক হয়েছে, ফলে তেল-মুদ্রা ও পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এই তথ্যের প্রেক্ষিতে মার্কিন ও এশীয় শেয়ারবাজারগুলোতেও তীব্র ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। বিশেষ করে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক উত্থিত হয়েছে এবং ইতালির এফটিএসই এমআইবি-তেও ভালো রিটার্ন মেলা শুরু হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চলমান অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠাতে সাহায্য করতে পারে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত বুধবার ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়, ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে। তবুও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমানে কমপক্ষে ৫০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এখানে পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে এবং নিরাপদ রুট সংক্রান্ত পরিস্কার নির্দেশনা না থাকায় জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনও সতর্ক অবস্থায় আছে।

বিশ্বের বড় জাহাজমালিক সংগঠন বিংকো (BIMCO) এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। সংগঠনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইয়াকব লার্সেন জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও নিরাপদ নৌপথ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য না মিলায় হরমুজ এখনও পুরোপুরি নিরাপদ বলা যাবে না। তিনি জাহাজ-মালিকদের পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন চালিয়ে যেতে এবং নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে অনুরোধ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের এই খবর বিশ্ব জ্বালানি ও পুঁজিবাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার এবং নৌ চলাচলের স্বাভাবিকীকরণে সময় ও সতর্কতাই প্রয়োজন।