ঢাকা | মঙ্গলবার | ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় চালের দাম বাড়ছে

আবহাওয়ার পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে চলতি সপ্তাহে এশিয়ার প্রধান চাল রফতানিকারক দেশগুলোর বাজারে দাম দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তার পর পরই সরবরাহহীনতার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে চাপ পড়েছে। সূত্র: বিজনেস রেকর্ডার।

ভিয়েতনামে গেলো কয়েক দিনে ভাঙা চালের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ে; প্রতি টনের দাম প্রায় ১০ ডলার উর্ধ্বমুখী হয়ে এখন ৪১৫–৪২০ ডলারের মধ্যে স্থিত আছে। যদিও মে মাসে দেশটির রফতানি গত বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বাড়িয়েছিল, ব্যবসায়ীরা বলছেন এল নিনো দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

থাইল্যান্ডেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ফলে চালের দাম ৪৫০ ডলারের কাছাকাছি স্থির ও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক ভারত দীর্ঘমেয়াদী মজুদের কারণে আপাতত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বাজার দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশে পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র তাপপ্রবাহ বোরো ধান কাটায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে; কৃষকেরা বলছেন অতিরিক্ত গরমে ধানের ফলন কমছে ও ক্ষেতেই ধান দ্রুত শুকে নষ্ট হচ্ছে। মৌসুম শুরুর ভারী বৃষ্টিপাতে দেশেই প্রায় দুই লাখ টন চালের ক্ষতির খবরের পর এই নতুন তাপপ্রবাহ স্থানীয় বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এই দ্বিমুখী আবহাওয়াগত চাপ দেশের চাল সরবরাহ হ্রাস করছে এবং ফলস্বরূপ ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ধারণা অনুযায়ী এল নিনো নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা সমগ্র এশিয়ার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বর্তমানে প্রাকৃতিক আবহাওয়া অনিশ্চয়তাই চালের বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, নীতিনির্ধারণ ও ক্যালিফায়ার কার্যক্রমের জরুরি প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।