ঢাকা | রবিবার | ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: পিট হেগসেথ

তেহরান সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। দুই দেশের কূটনীতিকরা যখন মতপার্থক্য দূর করে একটি স্থায়ী চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

শনিবার (৩০ মে) সিঙ্গাপুরে শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে হেগসেথ বলেন, প্রয়োজনে আমেরিকার সামরিক বাহিনী পুনরায় সমরাভিযান শুরু করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। সরাসরি কণ্ঠে তিনি জানান, ‘প্রয়োজনে আবারও অভিযান শুরু করার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।’

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের সামনে হেগসেথ আশ্বস্ত করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রতিবাদে আমেরিকা এই অঞ্চলের প্রতি তার নজর সরিয়ে রাখে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা একই সময়ে একাধিক কাজ করতে পারি,’’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে শক্তিশালী করে দ্রুত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে—যাতে ভবিষ্যতে বর্তমানের তুলনায় দুই, তিন বা চার গুণ বেশি সরবরাহ সম্ভব হয়।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে হেগসেথ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি টেকসই ও কার্যকর সমাধান চান। তিনি বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্যশীল অবস্থানে রয়েছেন এবং এমন একটি চুক্তি চান, যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবেনা।’’

রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক জরুরি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কীয় একটি প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করেন। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যকরভাবে এগোবার যথেষ্ট সময় পান সব পক্ষ।

কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাঝেই হেগসেথের এ ধরনের কড়া মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা হিসেবে দেখছেন — এটি তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত চাপ ও শক্তি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যদিও কথাগুলো কড়া, তবে হেগসেথের বক্তব্যে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক বিকল্পগুলোকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক বিকল্পও রপ্ত রাখবে।