শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ০৬ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুতগতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা এক উল্কাপিণ্ড আকাশে ভেঙে বিস্ফোরিত হয়। ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য সূত্র অনুযায়ী নাসা এই মহাজাগতিক ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সামাজিক প্রণালী এক্সে এর বিবরণ দিয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, উল্কাপিণ্ডটি ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের সীমান্ত এলাকার প্রায় ৪০ মাইল (প্রায় ৬৪ কিলোমিটার) উচ্চতায় খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। ভাঙনের সময় থেকে নির্গত শক্তির পরিমাণের তুলনা করে বলা হয়েছে, এটি প্রায় ৩০০ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমপরিমাণ শক্তি ছড়িয়েছে। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে তীব্র ঘর্ষণের ফলে ঘটে যাওয়া সেই শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণেই বজ্রতুল্য একটি বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ম্যাসাচুসেটস ও রোড আইল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় তীব্র বিকট শব্দ ও কম্পন অনুভব করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে অনেকেই হঠাৎ অস্বস্তিকর শব্দে ভয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন; কিছু জায়গায় ভবন পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। তবুও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল ও আশপাশে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
আমেরিকান মিটিওর সোসাইটির রিপোর্ট অনুযায়ী উল্কাপিণ্ডটির আকার ছিল প্রায় তিন ফুট (এক গজ) চওড়া — সাধারণ অগ্নিগোলকের থেকেও কিছুটা বড়। সোসাইটির প্রোগ্রাম মনিটর রবার্ট লুনসফোর্ড জানান, যদি উল্কাপিণ্ডটি বায়ুমণ্ডলে পুরোপুরি জ্বলেও শেষ না হয়, তবে এর অবশিষ্ট অংশ সমুদ্রেঘসে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
নাসা আবারও জোর দিয়ে জানিয়েছে যে এটি একটি প্রাকৃতিক মহাজাগতিক বস্তু ছিল—না কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ, না মহাকাশ বর্জ্য। বিদ্যমান পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা এখন তার গতিপথ, গতিবেগ ও বিস্ফোরণের বিশদ বিশ্লেষণ করছেন। এমন তীব্র বায়ুমণ্ডলীয় ভাঙন তুলনামূলকভাবে বিরল, তাই বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে।
সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে যেকোনো সন্দেহভাজন নমুনা বা ধ্বংসাবশেষ দেখলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তদন্ত চলছেই এবং ভবিষ্যতে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা সম্পর্কে জানানো হবে।













