আসন্ন ঈদুল আজহার প্রস্তুতির চাপের মধ্যে দেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে বৈধ পথে প্রবাসীরা মোট ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশের কাছে পৌঁছেছে প্রায় ১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রবিবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের তুলনায় এবার ভাল লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত বছরের মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে এসেছিল ২১০ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার, ফলে চলতি বছরে একই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ৮৭ কোটি ডলার বাড়েছে।
ব্যাংক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রধানত ঈদের পশু ক্রয় ও অন্যান্য উৎসব খরচ মেটাতে প্রবাসীরা পরিবারকে বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। এই প্রেরণাগুলি নুগ্ধভাবে ঘরের বাইরে থাকা পরিবারের খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে এবং একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও গুরুত্ব রাখছে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৩০ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য যে, গত মার্চে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এক মাসের আয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়া হয়। এপ্রিলেও প্রবাহ রেশমি থেকে যায় — ওই মাসে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে, তাহলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ও সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ প্রবাহ মনিটর করে নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে যাতে রেমিট্যান্সের সুফল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজে লাগে।














