ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নজরুলের ‘রুম ঝুম’ নিয়ে ফিরল কোক স্টুডিও বাংলা

কোকা-কোলা বাংলাদেশের সংগীত প্রদর্শনী কোক স্টুডিও বাংলা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরেছে। ২৩ মে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে চতুর্থ সিজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়—উদ্বোধন হয়েছে কালজয়ী নজরুল সংগীত ‘রুম ঝুম’কে আধুনিকভাবে পুনরায় সাজিয়ে।

গানের এই সুরটিতে রয়েছে এক দীর্ঘ এবং আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য। ‘রুম ঝুম’-এর মূল সুরের সূত্রপাত ইউরোপ-এশিয়া সেতুবন্ধ বসমফরাস উপকূলে বেড়ে ওঠা একটি অটোমান-তুর্কি লোকগানের সঙ্গে জড়িত—পরিচিত নাম ‘Üsküdar’a gider iken’ (উস্কুদারায় গিয়ে গেলে বলে)। রবীন্দ্র-নজরুলের যুগে নজরুল এই আন্তর্জাতিক ছন্দকে গ্রহণ করে তা বাংলার একটি বৃষ্টিবর্ণনায় রূপান্তর করেছিলেন; কোক স্টুডিও বাংলার নতুন সংস্করণ সেই ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নতুন ফিউশন তৈরি করেছে।

এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভা মাহতিম শাকিব ও নুসরাত জাহান। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন তুর্কি শিল্পী আলিফ হান্দে সেভগেল ও মোস্তফা ইপেক। গানের সুর ও বিন্যাস করেছেন সংগীত পরিচালক শুভেন্দু দাস, যিনি তুর্কি ও বাংলা সুরের মধ্যে সূক্ষ্ম সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন এবং গানটিকে সমসাময়িক মাত্রা দিয়েছেন।

কোক স্টুডিও বাংলার মঞ্চে মাহতিম শাকিবের অভিষেক হয়েছে; তিনি বলেন এটা তার জন্য গর্বের এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বহনকারী একটি প্রকল্পে অংশ নেওয়া ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। নুসরাত জাহানও জানান, এই গানটা তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শুভেন্দু দাসের মেন্টরশিপে বড় এক প্ল্যাটফর্মে সঙ্গীত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করাটা তার স্বপ্নপূরণ বলে তিনি মনে করছেন।

আয়োজকরা জানাচ্ছেন, চতুর্থ সিজনে মোট আটটি গান থাকবে। প্রতিটি গানই বিভিন্ন আবেগ, রাগ ও সংগীত ধারাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে; লক্ষ্য হলো আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে সেগুলো আধুনিক প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা। প্রথম গানটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও দর্শক প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই ভালো প্রতিভাস দেখাচ্ছে, তাই পুরো সিজনটি দর্শকদের জন্য নতুন চমক নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্বোধনী কাজটি কেবল একটি গানের পুনরুজ্জীবন নয়—এটি সাংস্কৃতিক সংলাপেরও প্রতিফলন, যেখানে স্থানীয় ভাবনা ও আন্তর্জাতিক সুর একসাথে মিশে নজরুলের সঙ্গীতকৃতি নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক করে তোলা হয়েছে। কোক স্টুডিও বাংলার এই প্রচেষ্টা স্থানীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বভারতীর ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে।