ঢাকা | সোমবার | ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সায়েদাবাদে ঈদযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সোমবার থেকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষের ঢেউ। সকাল থেকেই সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, টিকিট সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগে ছুটির আগের দিনগুলোতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

অগ্রিম টিকিট না পাবার কারণে অনেক যাত্রী কৌতূহল ও দুশ্চিন্তার মধ্যে টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে যারা আগে থেকে টিকিট পাবেননি, তাদেরকে বড় দূরপাল্লার বাসে সিট না পাওয়ার পর লোকাল বাসে দাঁড়িয়েই অথবা কখনো বাসের ইঞ্জিনের ওপর বসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দেখা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি টিকিট সংকটকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি রুটেই অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলগামী দূরপাল্লার কিছু বাসে প্রতিজন যাত্রী থেকে ২০০–৩০০ টাকা অতিরিক্ত ধার্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশালগামী এক যাত্রী জসিম বলেন, নিয়মিত ৫০০ টাকার টিকিট এখন ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবু টিকিট নিয়ে বাস না ছাড়ায় অনেককে দীর্ঘ সময় টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ও খুলনা রুটেও ভাড়ার নৈরাজ্য দেখা যাচ্ছে। যাত্রীদের কথায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম নন-এসি বাসের নিয়মিত ভাড়া ৭০০–৮০০ টাকা হলেও এখন ৯০০–১০০০ টাকায় নেওয়া হচ্ছে। আবার খুলনাগামী বাসে ৭০০ টাকার ভাড়া বেড়ে ১০০০ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি ঘরমুখো ভিড়ের কারণে লোকাল বাসগুলোতেও যাত্রী ঠাসাঠাসি করতে দেখা যায়; অনেক সময় আসন পূর্ণ হলেও দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

টার্মিনালের গরম এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণে শিশু ও নারীসহ সাধারণ মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী সড়কে ভিড়ের চাপ বাড়ায় বেশ কয়েকটি স্থানে জটও দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে যাত্রীরা মন্তব্য করছেন।

ভাগ্যজোটে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। তারা প্রশাসন, পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও কর্তৃপক্ষসমূহকে কড়া মনিটরিং, ভাড়া নির্ধারণ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, নতুবা ভিড় বাড়লে এবং দিনের রোদের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন।