বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রশংসিত হওয়ার পর এবার বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য মুক্তি পেয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চকোলেট’। নির্মাতা জসীম আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত এই প্রায় ২০ মিনিটের ছবি এখন ‘টাইমস অফ বাংলাদেশ’ এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে। সত্য ঘটনাভিত্তিক এই কাজটি মূলত শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ও ভয়াবহ সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত।
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে ‘চকোলেট’ দ্রুত জনমনে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে। নির্মাতা জসীম আহমেদ বলেন, ছবিতে শিশু ও নারীদের ওপর চলমান অমানবিক নির্যাতনের কষ্টের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে—এমন এক বিষয় যা সাধারণত বড় পর্দায় কমই হাজির হয়। বিশেষ করে যেভাবে কোনো শিশুকে তার নিজের ঘরও নিরাপদ রাখে না, সেই প্রশ্নটিই এই ছবির মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
চলচ্চিত্রটিতে গোলাম ফরিদা ছন্দা, শতাব্দী ওয়াদুদ, আজিজুল হাকিম ও শিল্পী সরকার অপুসহ কয়েকজন শিল্পীর সাহসী ও গভীর অভিনয় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তাদের পারফরম্যান্স সিনেমাটির বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মুক্তির আগে থেকেই ‘চকোলেট’ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘শর্টস ইন্টারন্যাশনাল’‑এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ছিল—যিনি বিশ্বের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিবেশনায় পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির ‘শর্টস টিভি’ চ্যানেলের মাধ্যমে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়াও এটি বিভিন্ন এয়ারলাইনস, মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ও আন্তর্জাতিক ভিডিও অন ডিমান্ড (ভিওডি) সেবায়ও প্রদর্শিত হয়েছে।
জসীম আহমেদের পূর্ববর্তী কাজগুলোও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৭ সালে তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘দাগ’ আমেরিকার মূলধারার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়েছিল। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘A Pair of Sandals’ একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বজোড়া প্রদর্শিত হয় এবং তুরস্কের একটি আন্তর্জাতিক উৎসবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিল। তাঁর কাজগুলো সাধারণত সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক সংকটের চিত্রায়নের মাধ্যমে প্রশংসিত হয়ে থাকে।
বর্তমানে দেশের সাধারণ দর্শকদের জন্য অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন ‘চকোলেট’ শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, নির্মাণশৈলী ও শক্তিশালী অভিনয়ের সংমিশ্রণে এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি দর্শকদের কাছে একটি গভীর ও প্রাসঙ্গিক বার্তা পৌঁছে দেবে—বিশেষভাবে অনলাইন মুক্তির ফলে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষজনের কাছেও এই বার্তাটি পৌঁছানো সম্ভব হবে।














