ঢাকা | রবিবার | ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আইজিসি সতর্ক: বৈশ্বিক প্রধান শস্য উৎপাদন কমার খিঁচুনি, ভোক্তা দাম বাড়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিল (আইজিসি) জানিয়েছে, গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবাদি জমির সংকোচন ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে গড় ফলন কমে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে।

আইজিসি-র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে গমের উৎপাদন প্রায় ৩ শতাংশ কমে ৮২ কোটি টন থাকতে পারে এবং ভুট্টার (মাছি/ভুট্টা) উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৩০ কোটি টনে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে গমের চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তাত্ক্ষণিকভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ধারা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে উৎপাদন হ্রাসের সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে শস্যের সমাপনী মজুদ প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৬১ কোটি ৫০ লাখ টন পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এ সময় কিছু অঞ্চলে—বিশেষ করে এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার কিছুক্ষেত্রে—আমাদানির চাপ কিছুটা সংকুচিত হতে পারে, তবু সামগ্রিক শস্য বাণিজ্যে প্রায় ২ শতাংশ পতনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

আইজিসি যদিান অনুযায়ী, এই উৎপাদন-ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশের প্রভাবে গত এক মাসে তৈলবীজ ও শস্যগুলির বৈশ্বিক মূল্যসূচক প্রায় ২.৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির মধ্যে গমের দরই সবচেয়ে বেশি তীব্রতা দেখিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মূল্যসূচক গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ উঁচুতে রয়েছে।

তবে সব শস্যেই নেতিবাচক চিত্র নাও দেখা যাচ্ছে—কয়েকটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিতও আছে। বৈশ্বিক সয়াবিন উৎপাদন প্রায় ৩ শতাংশ বাড়ে প্রায় ৪৪ কোটি ২০ লাখ টন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা একটি নতুন রেকর্ড হতে পারে। চালের উৎপাদনও স্থিতিশীল থেকে কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে; গত বছরের ৫৪ কোটি ৫০ লাখ টনের মাইলফলক ছোঁয়ার সম্ভাবনা উল্লিখিত হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার বাড়তি চাহিদার ফলে চালের বিশ্ব বাণিজ্য প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে।

বিশ্ববাজারে গমের সম্ভাব্য সংকটটি আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হতে পারে। আইজিসির সতর্কবার্তা অনুধাবন করে নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি প্রস্তুতি নেয়া, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা প্রদান ও দুর্বল ভোক্তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। একই সঙ্গে বাজার পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান করা হয়, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের খাদ্য-অভাব প্রতিরোধ করা যায়।