ফোর্বসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আবারও বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়ের অ্যাথলেট হিসেবে শীর্ষে আছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টানা চতুর্থবার এবং মোট মিলিয়ে ষষ্ঠবারের মতো তিনি এই অবস্থান দখল করেছেন। গত ১২ মাসে ৪১ বছর বয়সী আল-নাসরের এই তারকার মোট আয় থেকে এসেছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে মাঠের পারফরম্যান্স থেকে এসেছে ২২৫ মিলিয়ন ডলার এবং মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক কাজ ও বিজ্ঞাপন থেকে পেয়েছেন ৬৫ মিলিয়ন ডলার। বয়সকে ছাপিয়ে রোনালদোর এই আর্থিক রাজত্বই ফোর্বসের রিপোর্টে সবচেয়ে চমক হিসেবে উঠে এসেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে বড় চমক দেখিয়েছেন মেক্সিকান বক্সার ক্যানেলো আলভারেজ। লিওনেল মেসিকে পিছনে রেখে ক্যানেলো এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রীড়াবিদ। গত এক বছরে ৩৫ বছর বয়সী এই বক্সারের মোট আয় হয়েছে ১৭০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৯০ কোটি টাকার মতো। ক্যানেলোর আয়ের বড় অংশ—১৬০ মিলিয়ন ডলার—সরাসরি বক্সিং ম্যাচ থেকে এসেছে।
তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি, যিনি ১৪০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। মেসির আয়ের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো; মাঠে তার পারফরম্যান্স থেকে এসেছে ৭০ মিলিয়ন ডলার এবং মাঠের বাইরে ব্র্যান্ড ও বাণিজ্যিক কাজে থেকেও সমপরিমাণ ৭০ মিলিয়ন ডলার।
ক্যানেলো যদিও লড়াইয়ের ক্ষেত্রে গত বছর সম্পূর্ণভাবে সফল ছিলেন না—২০২৫ সালে তিনি রিংয়ে ১-১ রেকর্ড করেছেন এবং টেরেন্স ক্রফোর্ডের কাছে হারতে হয়েছে—তবুও আর্থিকভাবে তিনি ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন। কনুইয়ের অস্ত্রোপচারের জন্য বর্তমানে তিনি বিশ্রামে আছেন; তবু আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে ডাব্লিউবিসি শিরোপার লড়াইয়ে ক্রিস্টিয়ান এমবিলির বিরুদ্ধে রিংয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শীর্ষ আয়ের তালিকায় বক্সিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন মিডিয়ার চরিত্রও জায়গা করে নিয়েছে। ইউটিউবার থেকে বক্সারে পরিণত হওয়া জ্যাক পল ৭০ মিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে তালিকার ২৩ নম্বরে রয়েছেন।
শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন আমেরিকার বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস (১৩৭.৮ মিলিয়ন ডলার), জাপানের বেসবল তারকা শোহেই ওহতানি (১২৭.৬ মিলিয়ন ডলার), বাস্কেটবল তারকা স্টিফেন কুরি (১২৪.৭ মিলিয়ন ডলার) এবং স্প্যানিশ গলফার জন রাম (১০৭ মিলিয়ন ডলার)।
তালিকার নবম ও দশম স্থানে আছেন ফরাসি ফুটবলার করিম বেনজেমা এবং ব্রিটিশ ফর্মুলা ওয়ান তারকা লুইস হ্যামিল্টন। বেনজেমা আল-ইত্তিহাদে খেলেন এবং তার আয় ১০৪ মিলিয়ন ডলার, আর হ্যামিল্টনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলার।
ফোর্বসের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হয়ে আসে যে আধুনিক ক্রীড়া বিশ্বের আয়ের ভেতর মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্র্যান্ড ভ্যালু, বাণিজ্যিক চুক্তি ও নতুন বাজারের উত্থানও বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে রোনালদোদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা বয়সকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এখনও আয়ের শীর্ষেই থেকে যাচ্ছেন।














