দুই যুগেরও বেশি সময় পর আবারও একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন ‘লগান’-এর সফল জুটি — অভিনেতা আমির খান ও পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ক্রিকেটের লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘লগান’-এর সেই অসাধারণ সাফল্য এখনও দর্শকদের মনে তুল্যহারহীন। এবার তাঁরা আবারও ক্রিকেটভিত্তিক একটি প্রজেক্টে ফিরে আসছেন, তবে সূত্রগুলোর খবর অনুযায়ী এবারের গল্প আদতে কোনো কাল্পনিক কাহিনি নয়, বরং ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের বাস্তব জীবনকেই তুলে ধরবে।
আমির ও আশুতোষ লালা অমরনাথের বায়োপিক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিনেমার চিত্রনাট্য ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজকে কেন্দ্র করে লেখা হচ্ছে — দেশভাগের পরকার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুই দেশের প্রথম ওই ক্রিকেট লড়াইয়ের পেছনের নেপথ্য কাহিনি এখানে উঠে আসবে। নির্মাতারা খেলাধুলার সঙ্গে বন্ধুত্ত্ব, রাজনীতি ও দেশভক্তির জটিল সম্পর্ককে সংবেদনশীল ও বিশদভাবে উপস্থাপন করার কথা বলছেন।
লালা অমরনাথের ভূমিকায় দেখা যাবে স্বয়ং আমির খানকে। লালা ছিলেন ঐ সিরিজে ভারতীয় দলের অধিনায়ক ও সময়ের একজন প্রভাবশালী cricketer; সিনেমায় তার চরিত্রের মাধ্যমে সেই যুগের ক্রিকেটীয়, সামাজিক ও রাজনীতিক পর্যবেক্ষণগুলো ফুটিয়ে তোলা হবে। ‘লগান’-এ যেখানে আমিরকে এক অপেশাদার গ্রাম্য খেলোয়াড় হিসেবে দেখা গিয়েছিল, সেখানে এই ছবিতে তিনি এক জাতীয় দলের পেশাদার ক্রিকেটারের চরিত্রে পর্দায় আবির্ভূত হবেন—এই পরিবর্তিত ছাপ দেখার জন্যই ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ তীব্র।
চিত্রনাট্য লিখেছেন পীযূষ গুপ্ত ও নীরজ সিং, আর চিত্রনাট্য তৈরিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন রাজকুমার হিরানি। প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু হওয়ার পর আমির ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছেন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের দিকে ছবির শুটিং শুরু হতে পারে বলে খবর। ছবিটির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট — ফারহান আখতার ও রিতেশ সিদ্ধওয়ানির প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ও ‘তালাশ’-এর পর এটি আমির খানের এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে তৃতীয় বড় কাজ হবে। আশুতোষ গোয়ারিকরের পরিণত নির্দেশনা ও আমির খানের নিখুঁত অভিনয়ের সংমিশ্রণে এই বায়োপিক বছরের অন্যতম আলোচিত প্রজেক্টে পরিণত হবে বলে অনেকে ধারণা করছেন। ক্রিকেট ও ইতিহাসের সংমিশ্রণে গড়া এই ছবি কেবল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যই নয়, সাধারণ দর্শকের কাছেও সমানভাবে আকর্ষণীয় এক কাহিনি উপস্থাপন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।














