ঢাকা | বুধবার | ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

চাঁদপুরে তারেক রহমান: নির্বাচনী অঙ্গীকার বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ

চাঁদপুরে সমাবেশে বক্তব্যে প্রশাসন ও বিরোধিতার পরিকল্পনা বাধা দিলে জনগনই তা রুখে দেবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের শক্তি ও সমর্থন থাকলে সরকার যে নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছে সেগুলো বাধা সৃষ্টির সব ষড়যন্ত্রও পার হবে। ‘‘জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে, আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না,’’ তিনি বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান, বৃক্ষরোপণ—এসব কাজে যখন তারা অগ্রসর হয়েছেন তখন কিছু মানুষ বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে বিরোধিতা করছে। তিনি দাবি করেন, এসব বিভ্রান্তিকর ষড়যন্ত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতনভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জনগণের যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেই ম্যান্ডেটের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একে একে প্রতিশ্রুত কাজগুলো বাস্তবায়ন করবো। কেউ যদি এসব কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করার প্রয়োজন নেই — বাংলাদেশের মানুষই তাদের সেই পরিকল্পনা রুখে দেবে।’’

তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—সচেতন থাকব, এলার্ট থাকব। বিভ্রান্তকারীদের ফাঁদে আমরা পা দেব না। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড কার্যক্রম এবং বেকারদের কর্মসংস্থান—এই সব কর্মসূচিতে যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে, সেজন্য আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।’’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি জানান, চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গতকাল বিকেলে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এই কর্মসূচি একই সঙ্গে আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী — হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম ও তাসলিমা। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের বর্ণনাও ছিল। তিনি দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারে খোর্দ্দ খালের পুনঃখনন স্থলে ফলক উন্মোচন করেন। ফলক উন্মোচনের পরে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খালের পাড়ে নেমে কাজের সূচনা করেন এবং পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম এই খাল খনন করেছিলেন; ৪৮ বছর পর তার ছেলে তারেক রহমান সেই খাল পুনরায় খনন করছেন।

এক অনুষঙ্গ হিসেবে তিনি সাদাসিধে ভঙ্গিতে এক সাধারণ কৃষক—সাইফুল ইসলাম লিটনকে ডেকে নিজের পাশে বসান এবং তার সঙ্গে কথা বলেন। কৃষকের সুখ-দুঃখ খুব আন্তরিকভাবে শোনা হয়, এতে উপস্থিতরাও আবেগাপ্লুত হন। কৃষক সাইফুল পরবর্তীতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে ও সরাসরি কথা বলতে পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।

খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন ও প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে ঘিরে পুরো চাঁদপুর জেলায় উৎসবের পরিবেশ দেখা যায়। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকেই লোকজন সমাবেশস্থলে আসতে থাকে এবং হাজারো মানুষের উপস্থিতি মঞ্চ ও মাঠে চোখে পড়ে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের এমপি মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, জনগণের দাবি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—যদি জনগণের চাইতে এটা জনপ্রিয় ইচ্ছা হয়ে ওঠে, তা বাস্তবায়ন করা হবে। বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি বলেছিলেন যে, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা তাদের কর্তব্য।

শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনের তাগিদ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা বলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এখন আমাদের পালা—এই দেশকে গড়ে তোলা। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে ইনশাআল্লাহ প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’’

সমাবেশে এক হৃদ্য ও উৎসাহী ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, জনগণের কল্যাণে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সেগুলো নেতিবাচক বাধা-বিপত্তির মুখে পড়লে জনগণই এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন ও রক্ষা করবে।