ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নেটফ্লিক্সে ‘ধুরন্ধর ২’ আনকাট — আরও নির্মম হয়ে ফিরল থ্রিলারটি

আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ — কিন্তু থিয়েটারে দেখানো সংস্করণের তুলনায় এই অনকাট সংস্করণ দর্শকদের কাছে অনেক বেশি নির্মম ও চমকপ্রদ বলে ধরা দিয়েছে। পরিচালক আদিত্য ধর নির্মিত এই সংস্করণটি ১৪ মে থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হলেও, এর দৈর্ঘ্য ও সহিংস দৃশ্যে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৩ ঘণ্টা ৫২ মিনিট দীর্ঘ এই আনকাট কাঁটা সংস্করণে সিবিএফসি যে দৃশ্যগুলো কেটে দিয়েছিল, সেগুলো পুরোপুরি রাখা হয়েছে। কাটা মাথা, মাথা থেঁতলে দেওয়া এবং রক্তাক্ত সহিংসতা—এসব দৃশ্য কোনো সেন্সর ছাড়াই উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে উজাইর বালোচের চরিত্রে আরশাদ পাপ্পুর কাটা মাথা নিয়ে ফুটবল খেলার মতো বর্বর ও চোখে আঘাত করা দৃশ্যটি দর্শকদের কাছে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে মনে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, কোনো কাটছাঁট না থাকায় সিনেমাটি তার মূল মেজাজ ও নির্মমতা আরও পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

রণবীর সিং অভিনীত এই অ্যাকশনধর্মী ছবিতে অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন ও সঞ্জয় দত্তসহ আরও একঝাঁক শক্তিধর অভিনেতা রয়েছেন। আদিত্য ধর গোয়েন্দা জগতের অন্ধকার ও কড়া বাস্তবকে স্ক্রিনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যা এই আনকাট সংস্করণে অধিক পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পেয়েছে। সেন্সরবিহীন সংলাপ, কড়া ভাষাপ্রয়োগ ও কাঁটা অ্যাকশন অনেক দর্শকের কাছে গল্পের প্রেক্ষাপটকে স্বতঃসিদ্ধ করে তুলেছে।

তবে ভারতের দর্শকেরা এখনও সম্পূর্ণ সংস্করণটি না দেখা সত্ত্বেও বিদেশি দর্শকরা নেটফ্লিক্সে এটিকে দেখছেন। দেশে মুক্তি না পাওয়ার পেছনে আইপিআই সংক্রান্ত এক জটিলতা ভূমিকা রেখেছে—আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভারতে সিনেমাটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হবে না বলেই আদিত্য ধর বম্বে হাইকোর্টে জানিয়েছেন। সূত্রে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যখন ভারতের নিজস্ব ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিও-হটস্টারে এটি দেখানো হবে, তখন সার্বজনীনভাবে কেবল সিবিএফসি অনুমোদিত থিয়েটার সংস্করণটাই প্রদর্শিত হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ধুরন্ধর ২’—এর আনকাট সংস্করণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একপক্ষ ছবির নির্মাণশৈলী, চরিত্রায়ন ও সাহসী উপস্থাপনাকে প্রশংসা করছে; অন্যদিকে অনেকেই অতিরিক্ত সহিংসতা ও নির্দয় দৃশ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে এই সংস্করণ সিনেমাটির গ্রহীতা ও বিতর্ক উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, আইনি জটিলতা কাটলে ভারতে যখন থিয়েটার-অনুমোদিত সংস্করণটি ডিজিটালে আসবে, তখন স্থানীয় দর্শকরা কীভাবে এটি গ্রহণ করবেন এবং ছবিটির নিয়ে চলমান বিতর্ক কিভাবে বেড়ে বা থামবে। সেন্সর বনাম সৃজনশীল স্বাধীনতার সীমানা—এই প্রশ্নটি ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।