জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল আজহার সময় সারাদেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদের নিজস্ব দিনটি ব্যতীত আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।
এনবিআর রবিবার একটি বিশেষ আদেশ জারি করে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কমিশনারদের এটি অবহিত করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চলমান রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করবেন।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা, শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অনবরত যোগান নিশ্চিত করা এবং দ্রুত পচনশীল বা জরুরি আমদানিপণ্যের জট কমানো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রপ্তানি আদেশ সময়মতো সম্পন্ন করা এবং বন্দরে জট সামলাতে এ পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে তৈরি পোশাক শিল্প, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসায়ী এবং পচনশীল আমদানিপণ্য সংশ্লিষ্টরা বিশেষভাবে সুবিধা পাবেন।
এনবিআরের এই নির্দেশনা সম্পর্কে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো—এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, গত ঈদুল ফিতরের সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ধীরগতিতেই চললেও সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য স্থবির হওয়ার ঝুঁকি কমে গিয়েছিল।
প্রতি বছর ঈদ ও দীর্ঘ ছুটির সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে স্বল্পতা দেখা দেয়, সেই সমস্যা এড়াতেই সাধারণত কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রম আংশিকভাবে সচল রাখা হয়। এবারও এনবিআর সেই নীতিকে মেনে চলার মাধ্যমে ব্যবসাপ্রক্রিয়ায় বিরাম না দিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে।














