পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে বরগুনার আমতলী উপজেলার পশুর হাটে গরুর সরবরাহ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবু ক্রেতার উপস্থিতি ততটা নেই, ফলে খামারি ও ব্যবসায়ীরা হতাশ ও লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন। বিশেষ করে বড় আকৃতির গরুর ক্রেতা না থাকায় দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
রোববার ও এর আগের দিন শনিবার আমতলীর বিভিন্ন গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরু হদই বিক্রি হলেও বড়গরু হাতে-ভাঙা বিক্রি হয়েছে বা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছে। বিক্রেতারা বাজারে কাঙ্খিত দাম না পেয়ে দীর্ঘ সময় গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই বলছেন, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি গরুতে প্রায় তিন থেকে পাঁচ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত দর কমে গেছে।
আমতলী প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৮,৮১৩টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৯,০৭০টি পশু — এর মধ্যে ৫,৯১২টি গরু, ৫৯৫টি মহিষ এবং ২,৫৬৩টি ছাগল। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ২৫৭টি পশু বেশি আছে।
আমতলী গরুভাজার পরিচালক আলাউদ্দিন মৃধা বলেন, ‘‘প্রচলিত ক্রেতারা অনেকেই এখনো নিজ অঞ্চলে ফিরেননি। এর ফলে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কম। তবে ঈদের শেষ মুহূর্তে হয়তো চাপ বাড়লে কিছুটা দাম উঠতে পারে।’’
বাজারে গরু নিয়ে আসা খামারিদের হতাশা স্পষ্ট। স্থানীয় খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার খামারের ‘রাজ বাহাদুর’ নামের গরুটি নিয়ে এসেছি। সাড়ে তিন লাখ টাকা দাম চাইছি, তবু ক্রেতারা দুই লাখ সত্তর হাজার টাকার বেশি বলছে না।’’
দক্ষিণ সোনাখালী গ্রামের কবির জোমাদ্দার জানান, ‘‘পনেরো দিন আগে তিনটি গরু মোটে এক লাখ পঁচহাজার টাকায় কিনেছিলাম। এখন একটি গরু মাত্র ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি; বাকি দুটিরও কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।’’ কাঠালিয়া গ্রামের জামাল প্যাদা বলছেন, ‘‘গত বছরের তুলনায় দাম অনেক কমে গেছে। আমি এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা চাইলেও ক্রেতারা এক লাখ টাকার বেশি দিতে রাজি হচ্ছেন না।’’
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, তীব্র সরবরাহের কারণে তারা কম দামে ভালো গরু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। পৌরসভার খোন্তাকাটা এলাকার জুনায়েদ সাদ জানান, ‘‘বাজারে গরু প্রচুর ও দাম তুলনামূলক কম, তাই দেখে-শুনে স্থানীয় গরু কিনব।’’
পটুয়াখালী থেকে এখানে ব্যবসা করে আসা কামাল আকন জানান, ‘‘গত সপ্তাহে আমতলী থেকে ২১টি গরু কিনে কুষ্টিয়ায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেছি, কিন্তু তেমন লাভ হয়নি। বাজারে যত গরু এসেছে, তার তুলনায় ক্রেতা খুবই কম।’’ গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের ব্যবসায়ী ধলু মিয়া আরও জানান, ‘‘এক মাস আগে পাঁচটি গরু ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। এখন বিক্রি করলে মূলধনও উঠবে না, উপরন্তু এক মাসের খরচও যুক্ত আছে।’’
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের আশা, ঈদের ঠিক আগের দুই দিন ধরে হাটে ক্রেতার চাপ বাড়লে আংশিক হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। তবে অনেকেই বলছেন, যদি বড় ক্রেতারা আর সময় মতো না আসেন তবে লোকসানের আশঙ্কা এ মরসুমেও কাটবে না।














