অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনি শিশুরা তীব্র কষ্টের মধ্যে আছে—এমন আশঙ্কা ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানান, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত এবং আরও প্রায় ৮৫০ জন আহত হয়েছে।
এল্ডার বলেন, ২০২৫ সালের শুরু থেকে যখন থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, তখন থেকেই গড়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একজন শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। আহত এবং নিহত শিশুদের অনেকের দেহে সরাসরি গুলির নিদর্শন পাওয়া গেছে বলে তিনি জরুরি ভাষায় সতর্ক করেছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মাত্রা এতটুকু বেড়েছে যে সেটি গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নির্দিষ্ট হামলা শিশুদের দেহিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতি দুটোই নস্যাৎ করছে।
এল্ডার আরও বলেন, পরিস্থিতি পরিকল্পিতভাবে শিশুর বেঁচে থাকার মৌলিক পরিবেশ ধ্বংস করছে। ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দেওয়া, বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিঘ্নিত করা, পানীয় পানি ও পয়র্নিবাহী ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানোর পথ প্রায়ই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে—সবগুলোই শিশুদের দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছে।
তাঁর কথায়, চলাচলের ওপর আরোপিত কড়াকড়ি ও বাধা শিশুরাকে স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া বা নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখছে, ফলে পরিবারগুলো অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়ছে।
জেমস এল্ডার এবং ইউনিসেফের বার্তায় গুরুতর নীতিগত দিকটাও উঠে আসে: সশস্ত্র সংঘাত ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা থেকে শিশুদের আলাদা করে সুরক্ষা দেয়া আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির ভিত্তিতে অপরিহার্য। সংস্থাগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে জরুরি হস্তক্ষেপ, শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অসহায় শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।














