ঢাকা | বুধবার | ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরছেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো

আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে ইউরোপে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এই সফরের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আজ খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের ভিসা আবেদনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে। সান মারিনোতে ভ্রমণের জন্য ইতালির মধ্য দিয়ে ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হওয়ায় রাজধানীর সংশ্লিষ্ট দরজায় অনেক খেলোয়াড় এসে আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছেন—এখনই ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার কারণ হিসেবে ইউরোপীয় ভিসা নেয়ার সময়সাপেক্ষতা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিসা কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা গেছে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর উপস্থিতি। ২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুর সাফ টুর্নামেন্টে ভালো করে আলো ছড়িয়ে টুর্নামেন্টসেরা হয়েছিলেন জিকো; পরে শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় ও তখনকার প্রধান কোচের সিদ্ধান্তে তিনি জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন। ঘরোয়া লিগে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে সেতার ধারাবাহিক ভালো ফর্মের পর আবারও তাকে জাতীয় দলে নেওয়ার বিষয়ে ভাবনা শুরু করে ফেডারেশন। সূত্র অনুযায়ী, প্রথমে তাকে মালদ্বীপের চারজাতি টুর্নামেন্টের স্কোয়াডে রাখার পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু সান মারিনো সফরে তার প্রত্যাবর্তন ও আগ্রহ বিবেচনায় রেখে তাকে ইউরোপ সফরের দলভূক্ত করা হয়েছে।

আজকার ভিসা প্রক্রিয়ায় জিকোর পাশাপাশি রক্ষণভাগের তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়া এবং আক্রমণভাগের রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন ও ফাহিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সোহেল রানা (সিনিয়র ও জুনিয়র) এবং গোলরক্ষক মিতুল মারমাককেও তালিকায় দেখা গেছে। দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, প্রবাসী তারকা হামজা চৌধুরী ও সামিত সোমের কাছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, ইংল্যান্ড ও কানাডার পাসপোর্ট থাকায় তাদের আলাদা করে ইউরোপীয় ভিসার প্রয়োজন হবে না। অন্যদিকে ঘরোয়া লিগে মোহামেডানের হয়ে দারুণ ফর্ম থাকা সত্ত্বেও সৌরভ দেওয়ানকে সান মারিনো সফরের চূড়ান্ত দলে রাখা হয়নি।

বর্তমানে জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ শূন্য থাকায় স্থানীয় কোচমণ্ডলী মিলিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি খেলোয়াড় তালিকা গঠন করেছে। মারুফুল হক, সাইফুল বারী টিটু ও হাসান আল মামুন তিনজনের তত্ত্বাবধানে দুইটি আলাদা দল—একটি সান মারিনো সফর এবং আরেকটি মালদ্বীপ সফরের জন্য—তৈরি করা হয়েছে। সান মারিনো সফরের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আমের খান এবং গোলরক্ষক কোচ হিসেবে থাকছেন নুরুজ্জামান নয়ন।

বাফুফে আশা করছে, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে বিদেশি এক জন প্রধান কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে। নতুন কোচ নিয়োগ সম্পন্ন হলে তাঁর অধীনে ইউরোপের মাটিতে সান মারিনোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ প্রদর্শন করবে বাংলাদেশ, এমন প্রত্যাশা রাখছে ফেডারেশন। এখন শীঘ্রই ভিসা পাওয়া এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দিয়েই দল ইউরোপ সফরের জন্য রওনা দেবে।