ঢাকা | সোমবার | ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ জন নিহত

লেবাননে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, বলে জানিয়েছে লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)। শুক্রবার (৮ মে) চালানো এ হামলায় একজন সিভিল ডিফেন্স সদস্যসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৫৮৬ ছাড়িয়েছে, রিপোর্ট করা হয়েছে।

এনএনএ জানায়, টাইর জেলার তাওরা শহরে পৃথক এক হামলায় পাঁচজন নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এক কিশোরীকে উদ্ধারের চেষ্টা এখনও চলছে। দক্ষিণ লেবাননের মারজাইউন, হাসবাইয়া, বিনত জবেইল, নাবাতিয়াহ, সাইদন ও জেজিন অঞ্চলে একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলারও খবর পাওয়া গেছে, এসব আঘাতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এই সহিংসতার মধ্যেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও একটি দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, এই বৈঠকটি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ কমাতে আয়োজিত তৃতীয় দফার আলোচনা হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১৭ এপ্রিল এক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, পরে তা ১৭ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সূত্রগুলো বলছে, ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদে বহুবার লঙ্ঘন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনী ইরানে হামলা চালায় এবং একই দিন দক্ষিণ লেবাননে হামলা করা হয়। পরে ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, যা আঞ্চলিক напকটিকে আরও জটিল করে তোলে।

দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক কূটনীতিকতায় তৎপর থাকার পরও তেহরান ও ওয়াশিংটন কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি; ওয়াশিংটন বলে তেহরানের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট প্রশমনের(latest) প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষা করছে।

মার্কো রুবিও, যিনি মার্কিন সিনেটর, মঙ্গলবার বলেন একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব, কিন্তু তাঁর মতে এখন সরাসরি দুই সরকারের বিবাদ নয়—বরং হিজবুল্লাহই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে লেবাননে সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরবচ্ছিন্ন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অসহায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি বোধহয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগোলে গেলে সেখান থেকে তাত্ক্ষণিক মানবিক সহায়তা ও স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব হতে পারে।