ঢাকা | শুক্রবার | ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি তেল দামের চাপ কমাতে কর হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩৯ দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তাদের ওপর পড়া বোঝা কমানোকে লক্ষ্য করে ৩৯টি দেশ জ্বালানিতে আরোপিত কর বা ভ্যাট হ্রাসের পথে গেল। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরকারগুলো বলছে, অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি রোধ করতেই তারা রাজস্বের একটি অংশ ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইউরোপ: ৩৯টির মধ্যে ১৯টি দেশ ইউরোপীয়। এসব দেশের সম্মিলিত জ্বালানি সংক্রান্ত করছাড়ের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৯৫০ কোটি ইউরো—যা প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ইউরো। এর মধ্যে স্পেন একাই প্রায় ৩৫০ কোটি ইউরো বরাদ্দ করেছে, জার্মানি প্রায় ১৬০ কোটি ইউরো রাখছে এবং ইতালি সাময়িকভাবে ২০ শতাংশ কর কমিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো খরচের পরিকল্পনা করেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কেন এত দ্রুত বাড়ছে, তার মূল কারণ হিসেবে বিশেষত ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এবং সেটি হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ঝুঁকি বলা হচ্ছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করে; সংঘাত বা নৌপথে বাধা পড়লে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা পড়ে এবং দাম তাড়াতাড়ি বাড়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সরবরাহ ধরা পড়ে না, ততক্ষণ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি চাপ থাকবে।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছে যে বিস্তৃতভাবে কর কমিয়ে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনেকে পূর্বেই উচ্চ সরকারি ঋণের বোঝা বহন করছে; অতিরিক্ত রাজস্ব হ্রাস হলে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। আইএমএফ চায়, তেলসাপোর্টগুলো হলে তা সুনির্দিষ্ট, লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক হওয়া উচিত, যাতে সরাসরি দুর্ভোক্ত শ্রেণিকে সুবিধা পৌঁছায় এবং রাজস্ব ক্ষতি সীমিত থাকে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে অনেক দেশ একসঙ্গে কর কমালে সাময়িকভাবে চাহিদা বাড়তে পারে, যা আংশিকভাবে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যকে উসকে দিতে পারে। অনেক সরকারই এখন বিকল্পভাবে মূল্যসীমা নির্ধারণ, পাইকারি বা খুচরা মুনাফায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং সরবরাহ-নিয়ন্ত্রণ নীতিও বিবেচনা করছে। দীর্ঘ মেয়াদে ইউরোপীয় কমিশন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সংশ্লিষ্ট সব পদক্ষেপের মধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে—চাহিদা ও সরবরাহের স্থিতি কবে সাভাবিক হবে, তা বড়ভাবে geopolitical পরিস্থিতি ও নীতি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।