ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙর এলাকায় সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মরদেহ পাওয়ার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফল ঘোষণার পর থেকেই ভাঙর ও আশেপাশের এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে জিতেছে এমন আইএসএফ নেতৃত্বে দলের কিছু সমর্থক রাতভর বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালিয়েছে। নিমকুড়িয়া গ্রামে তৃণমূল সমর্থকদের ওপর সশস্ত্রভাবে হামলার কথা বলা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ফিরোজ মোল্লা জানান, আইএসএফের বুথ সভাপতির নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় তার মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত হয়েছে এবং তার বাবা গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেঁওতা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ প্রসঙ্গে আইএসএফ বা বিজেপির তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
কলকাতার বেলেঘাটা থানাধীন ভারিনী এলাকায় বিশ্বজিৎ পট্টানায়ক নামে তৃণমূলের এক কর্মীর রহস্যমৃত্যু ঘটেছে। পরিবার জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এক ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকেরা বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ পেয়ে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বজিতের পকেট থেকে একটি ভাঙা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা বলে দাবি করেছে। বেলেঘাটা থানার পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে কললিস্ট যাচাই করে তদন্ত শুরু করেছে।
নির্বাচনের দিন কোনো বড় প্রাণহানির খবর না থাকলেও ফল ঘোষণার পর এই সহিংসতা রাজ্যের পুরনো রাজনৈতিক সংঘাতেরই পুনরাবৃত্তি বলেই মনে করছেন অনেকে। তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন জেলায় হামলার অভিযোগ উঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেগবান ও স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একই সময় হাওড়ার উদয়ননগর (উদয়নারায়ণপুর) এলাকায় ফলপ্রকাশের পর বিজেপির এক কর্মী জয় উদ্যাপনে মেতে ওঠার সময় তৃণমূল শিবিরের পরিচিত ব্যক্তিদের হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন—এই অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছে। নিহতের নাম জানিয়েছেন যাদব বর, বয়স প্রায় ৪৮ বছর। স্থানীয়রা বলছেন, সোমবার রাত আঠেরো থেকে এগারোটা নাগাদ তিনি বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজনের হাতে তুলে নিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়; পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে এবং এক জনকে গ্রেপ্তার করেছে; তবে গ্রেপ্তারের নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক নেতা-সমর্থকদেরও শীতল মাথা বজায় রেখে সংঘাত এড়াতে এবং আইনি পথে অভিযোগ তুলে তফসিল অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করার আবেদন করা হচ্ছে।













