ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বেগমগঞ্জে চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে হত্যা, শ্যালক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিক (৩৫)কে বসতবাড়ির সিঁড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তার শ্যালক রাহাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। হত্যার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা ইয়াসিন আরাফাত সুজন বর্তমানে দেশে নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।

ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানির কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর। তিনি শুক্রবার (১ মে) জানান, মামলার ওই আসামি রাহাতকে রংপুরের হাজিরহাট থানা এলাকায় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত আবু বকর সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের খোয়াজপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়ির মৃত হাজি আমিন উল্লাহর ছেলে। পুলিশের ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিদ্দিক ঢাকা-গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বড় ভাইয়ের খাবারের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে বাড়িতে ফিরে আসেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে বারটার দিকে তিনি বসতঘরের সিঁড়িতে বসে মোবাইল দেখছিলেন। তখন পূর্বশত্রুতা এবং ‘ওমান প্রবাসী’ হিসেবে থাকা সুজনের স্ত্রীর ব্যাপারে বিরোধের জেরে সুজন ও তার শ্যালক রাহাতসহ ৪-৫ জনের একটি দল সিদ্দিককে সিঁড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে গামছা পেঁচিয়ে মুখ বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে মারধর করা হয়। দুর্বৃত্তরা আহতকে মৃত বলে ধরে ফেলে রেখে যায়।

স্থানীয়রা জানা মাত্রই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ এপ্রিল দুপুরে তিনি মারা যান।

নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন ২৭ এপ্রিল সুজন ও রাহাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দেন। মামলার মূল অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাত সুজন (৩৫) — হানিফ চৌধুরীর ছেলে — সিদ্দিকের মৃত্যুর পর দেশে না থেকে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাহাত (২২) রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গংগাহারী এলাকা থেকে আটক করা হয়; তিনি ওই এলাকার চিত্তনী বাড়ির মো. সোলোমানের ছেলে। র‍্যাবের তরফ থেকে অভিযুক্তকে রংপুর মহানগরীর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

দুর্বৃত্তিরা কেন ও কীভাবে সিদ্দিককে টার্গেট করল—তার পেছনের কারণ ও সব সহযোগীর খোঁজে র‍্যাব ও পুলিশ তদন্ত করছে। স্থানীয়রা এই নৃশংস ঘটনায় শোক ও আক্রোশ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার চেয়েছেন।