ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পশ्चिमবঙ্গে প্রথম দফায় ১১০টিরও বেশি আসন জিতবে বিজেপি: অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিউটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে। তিনি শুধু আসনসংখ্যার আভাস দেননি, ভোটের উচ্চ উপস্থিতি, নিরাপত্তা ও ইভিএম-বিষয়ক বক্তব্যে দলীয় আত্মবিশ্বাসও ফুটিয়ে তুলেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬টি জেলায় অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে ইকোনমিক টাইমসের উদ্ধৃতিতে ভোটদান হার প্রায় ৯২.৭২ শতাংশ ছিল—এক পশ্চাৎপট যেখানে গেরুয়া শিবির এটিকে পরিবর্তনের সংকেত ও শাসকদলের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে দেখছে। অমিত শাহ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সারা রাত বিশ্লেষণের পর তাদের অ্যানালাইসিস স্পষ্ট—বিজেপি বড় পরিসরে এগোচ্ছে।

নিৰ্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণকে ‘শান্তিপূর্ণ’ ও ‘ভয়মুক্ত’ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের প্রশংসা জানান। প্রথম দফায় কোনো প্রাণহানি না ঘটাকে তিনি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে মূল্যায়ন করেন এবং বলেন, মানুষ এবার ভয়ের বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসের পথে এগোচ্ছে।

অমিত শাহ ভোটের অনেক উচ্চ উপস্থিতি ‘সুনামি’ বলেও উল্লেখ করেন এবং এটিকে শাসকদলের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট-রাজের বিরুদ্ধে জনগণের জমজমাট প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবর্তন মানে শুধু বিধায়ক বা দল বদল নয়—এর মধ্যে দুর্নীতি নির্মূল, সিন্ডিকেটের অবসান এবং প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ ওঠানোও অন্তর্ভুক্ত।

ইভিএম সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তিনি জানান, বিজেপির প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আশা প্রকাশ করেন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে খণ্ডন করে অমিত শাহ জানান, ৫ তারিখের পর পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবে আবির্ভূত একজন বাঙালি—যিনি বাংলায় জন্মগ্রহণ ও বাংলামাধ্যমে পড়াশোনা করবেন। এক বৃহৎ কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন সেই ভিড় অকল্পনীয় ছিল এবং এক প্রবীণ নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর ব্যক্তিগতভাবে শক্তি জুগিয়েছে; ফলে বিরোধীদের আক্রমণ যেন কম প্রভাব ফেলে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অনারসনের (ঝালমুড়ি) ঘটনাকে ঘিরে সমালোচনার জবাবে তিনি তীব্র ব্যঙ্গ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঝালমুড়ি খান, তাহলে মোদি খেলে আপত্তি কোথায়।

দ্বিতীয় দফা নির্বাচন—যা ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে—সম্পর্কেও তিনি বলেছে প্রথম দফায় শুরু হওয়া পরিবর্তনকে দ্বিতীয় দফার ভোটাররা পূর্ণতা দেবেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য।

মোট ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ৪ মে ঘোষণা করা হবে। আগামী ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় দফায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১৪২টি আসনে মূল লড়াই হবে।