চট্টগ্রামের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ সাফ করেছেন টাইগাররা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি (১০৫) ও মুস্তাফিজুর রহমানের ফাইভ-ফর (৫/৩০) নিয়ে বাংলাদেশের কাছে এলিশান জয়। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজটি বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিতলো। রানের দিক থেকে কিউইদের বিরুদ্ধে এটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয়—এর আগে ২০১৩ সালে মিরপুরে সর্বোচ্চ ছিল ৪৩ রানের জয়।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ এবং নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান গড়তে সক্ষম হয় তারা। ইনিংস শুরুতেই চাপে পড়ে দল—ইনিংসের দ্বিতীয় বলে সাইফ হাসান শূন্য রানে আউট হলে আর তানজিদ হাসান তামিমও দ্রুত ফিরে যান (৫ বলে ১)। সৌম্য সরকার ২৬ বলে ১৮ করে তৃতীয় উইকেটে আউট হলেও তারপর শান্ত ও লিটন দাস জুটি গড়ে দলকে সেরে তোলেন। ধীর শুরুয়ের পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তারা চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন; লিটন ৭৬ রান করেন, আর শান্ত ১১৯ বল খেলে ৯ চার ও ২ ছকায় ১০৫ রানের সেঞ্চুরি করেন—এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরান। মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ রান করেন; তা ছাড়া তাওহিদ হৃদয় অপরাজিত ৩৩ ও মুস্তাফিজুর রহমান ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
নিউজিল্যান্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায়। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজের বouncer-এ হেনরি নিকোলস টপ-এজ দিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। উইল ইয়াংও নাহিদ রানার শিকার হয়ে ২৫ বলে ১৯ রান করে ফেরেন। টম ল্যাথামকে মিরাজের বলে শরিফুল ইসলাম টপ-এজ তুলে ধরে ফিরান। যদিও নিক কেলি (৫৯) এবং ডিন ফক্সক্রফট (৭৫) প্রতিরোধ গড়েন, কিন্তু মুস্তাফিজ মাঠে ফিরে এসে জমে থাকা চাপ ভাঙেন—তার ছিল অভিজাত ৫ উইকেট। শরিফুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেন; ফলে নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায়।
ম্যাচের সেরার পুরস্কার পান মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন এবং দুই ইনিংসেই সামরিক ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন। ব্যাট হাতে প্রথমে দলের ভরসা হয়ে দাঁড়ানো শান্তের ইনিংসই ছিল ম্যাচের চাবিকাঠি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (লিটন ৭৬, শান্ত ১০৫)। নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯)। ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।














