ঢাকা | শুক্রবার | ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মিন অং হ্লাইং কমালেন অং সান সু চির সাজা, ৪৩৩৫ বন্দির সাজা মওকুফ/হ্রাস

মিয়ানমারে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশে বড় ধরনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। সরকারি টিভি এমআরটিভি এবং কাতারভিত্তিক আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রেসিডেন্টের আদেশে মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন কারাবন্দির সাজা মওকুফ বা হ্রাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর নাম হল নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। ৮০ বছর বয়সী সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমায় তাঁর সাজা প্রায় সাড়ে চার বছর কমিয়ে আনা হয়েছে, তবে পুরো মুক্তি বা কারা থেকে গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তর করা হবে কি না—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাঁর আইনজীবী বা সরকারি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

প্রেসিডেন্টের ক্ষমার আওতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও শর্তসাপেক্ষে পূর্ণ সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা ও শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে অবশিষ্ট সাজা মওকুফ হবে।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, এবার মওকুফ হওয়া বন্দিদের মধ্যে ১৭৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এই বিদেশি বন্দিদের মানবিক কারণে মুক্তি দিয়ে দ্রুততম সময়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়েছে, আর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪০ বছরে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের ক্ষেত্রে সাজার নির্দিষ্ট অংশ মওকুফের কথাও বলা হয়েছে।

এমআরটিভি জানিয়েছে, মানবিক কারণে এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে ঐতিহ্যগতভাবে প্রতি বছর জানুয়ারি (স্বাধীনতা দিবস) ও এপ্রিল (নববর্ষ) মাসে বন্দিদের মুক্তির একটি রীতি আছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, 이번 ক্ষমাটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কারণ এটি মিন অং হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বড় ধরনের সরকারি আদেশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ নরম করা এবং দেশে চলমান গৃহযুদ্ধের মাঝে নিজের সরকার ও বাহিনীর ভাবমূর্তি কিছুটা নমনীয় দেখাতে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীকে নেতৃত্বে নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে অং সান সু চি ও এনএলডি-র শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন অভিযোগে আটক ছিলেন।

অন্যদিকে সু চির অসংখ্য সমর্থক ও আন্তর্জাতিক দলের মানসপটে তাঁর পূর্ণ মুক্তির দাবি এখনো জোরালো। স্থানীয়ভাবে এই সাজা হ্রাসকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এটি কি টেকসই শান্তি বা স্থিতিশীলতা আনবে—তা সময়ই নির্ধারণ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বিশদ নির্দেশনা বা বন্দিদের মুক্তি কার্যক্রম কবে পর্যন্ত সম্পন্ন হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।