ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতি রক্ষার জন্য বৃহৎ উদ্ধার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি ভাঙিয়ে দিতে ৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ বিস্তারিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থমন্ত্রী কু ইউন-চুল, যিনি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্যাকেজের ভেতরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে কু ইউন-চুল শংকিত কণ্ঠে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ জনগণের জীবিকা, স্থানীয় শিল্প ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা আসতে পারে; তাই সিউল সরকার দ্রুত ও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
প্রণোদনা প্যাকেজের একটি বড় অংশই সরাসরি শিল্প ও পরিবহন খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে লক্ষ্য করে। বিশেষত ইউরিয়া ও ইউরিয়া সলিউশনের সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটে সে কারণে সরকারের জরুরি মজুত বাজারে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা মাসের শেষের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।
অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে প্রশাসনিক তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। কু ইউন-চুল সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে অনুমোদিত সম্পূরক বাজেট দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান প্রক্রিয়া আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ঘোষিত অর্থের অন্তত ৮৫ শতাংশ বা তার বেশি পরিমাণ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে ছাড়ানো, যাতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করে।
জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া কৌশলগত পদক্ষেপও নিচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল ও ন্যাফথার মতো জরুরি জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকারের উচচ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি চলছে।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এই আগাম ও ব্যাপক প্রণোদনা ঘোষণা করে যে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাবকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কেবল দফতরভিত্তিক সংরক্ষণ করবে না, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে এটিও সহায়তা করবে। সরকারী ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়িক মহল ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে, তবে সংঘাতের সময়কাল ও তীব্রতার ওপর ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে।













