মিয়ানমারে নতুন বিদ্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং এক বিস্তৃত সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনি মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন কারাবন্দির সাজা মওকুফ বা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন—এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক আল জাজিরা এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টিভি এমআরটিভি।
সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্র বলছে, সাধারণ ক্ষমার সবচেয়ে 눈্চা আগের ঘটনা ছিল গণতন্ত্র সমর্থক নেত্রী অং সান সু চির সাজা প্রায় সাড়ে চার বছর কমিয়ে দেওয়া। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী সু চি মোট ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন; তবে প্রেসিডেন্টের আদেশে তাঁর সাজা থেকে প্রায় চার বছর ছয় মাস কমানো হয়েছে। এখনও স্পষ্ট নয় তিনি কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত হয়ে গৃহবন্দিত্বে পাঠানো হবেন কিনা—এ বিষয়ে সু চির আইনজীবী ও সরকারি পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের ক্ষমার আওতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও শর্তসাপেক্ষে পূর্ণ সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা ও শর্ত মেনে তাঁর অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে।
সরকারি বার্তা অনুযায়ী, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির মধ্যে ১৭৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এসব বন্দির দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে সকল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়েছে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ বছরে নামানো হয়েছে এবং অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অংশ সাজার মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমআরটিভি জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও জাতীয় ঐক্য জোরদারের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে ঐতিহ্যগতভাবে প্রতি বছরের জানুয়ারি ও এপ্রিল মাসে মুক্তি-বিধান চলছে; কিন্তু এই সাধারণ ক্ষমাটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি মিন অং হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বড় সরকারি আদেশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা এবং দেশে চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষিতে নিজেদের ভাবমূর্তি নরম করতে জান্তা সরকারের এই কৌশলগত পদক্ষেপ। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই অং সান সু চি ও এনএলডি শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন অভিযোগে আটক রয়েছেন; সু চির সাজা হ্রাসের ঘোষণাকে তাঁর সমর্থকরা ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করলেও, আন্তর্জাতিক মহলে তার পূর্ণ মুক্তির দাবি এখনো অব্যাহত আছে।
বর্তমান সাধারণ ক্ষমা দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতায় স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।













