ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরে টানা পরাজয়ে কাঁপছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। পাঁচ ম্যাচ খেলে এখনও একটিও জিততে না পারায় অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বে দলটি বিপর্যয়ের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে দলের কৌশল ও ব্যয়বহুল দলে বিনিয়োগকে নিয়েও সরব হয়েছেন ভারতের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান বীরেন্দর শেবাগ।
শেবাগ মনে করেন, গত নিলামে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিন এখন কলকাতার জন্য ‘বোজা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিলামে এই রেকর্ডমূল্যের খেলোয়াড়কে নিয়ে ভক্তদের আশা ছিল আকাশ ছোঁয়া, কিন্তু মাঠে বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচে গ্রিনের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৫৬ রান, বল হাতে নিয়েছেন শুধু একটি উইকেট। পিঠের চোটের কারণে তিনি প্রথম তিন ম্যাচে বোলিংই করতে পারেননি। সাম্প্রতিক চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি দুই ওভার বল করে ৩০ রান খরচ করেন ও ব্যাটিংয়ে কোনো রান করতে ব্যর্থ হন।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেবাগ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন কেন এত টাকা খরচ করে একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হলো, যখন তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করছেন না। শেবাগের কথায়, ‘‘যখন হাতে পর্যাপ্ত অর্থ আছে বলে এমন একটি জল্পনা চলে, তবুও গ্রিনের মতো খেলোয়াড়ের পেছনে এত বিপুল অর্থ খরচ করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এখন তিনি যদি একাদশে থাকেন পারফর্ম করছেন না, আর বাইরে রাখলেই প্রশ্ন উঠবে কেন তাকে এতটা খরচ করে নেওয়া হলো—এটা এমন এক পরিস্থিতি যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য তিনি লায়াবিলিটি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে এই ব্যর্থতা স্বীকার করার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই এবং ম্যানেজমেন্টকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
টিম গঠন ও কৌশলে পরিবর্তনের পরামর্শও দিয়েছেন শেবাগ। তিনি বলেছেন, আপাতত গ্রিনকে সাইডবেঞ্চে রেখে নিউজিল্যান্ডের দ্রুত গতিসম্পন্ন ব্যাটার টিম সেইফার্টকে একাদশে আনা উচিত—তিনি সম্প্রতি কিউই দলে ভালো ছন্দে রয়েছেন এবং দলের ব্যাটিংকে বাড়তি শক্তি দিতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যাটিং অর্ডারেও রদবদল প্রয়োজনীয় বলে শেবাগ বলেন: ওপেনারদের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক থাকতে দেওয়া, আজিঙ্কাকে টপ থ্রি-তে খেলানো (তিন নম্বর) এবং রভম্যান পাওয়েলকে চার নম্বরে নামানো উচিত। তরুণ আংক্রিশ রাঘুবংশীকে কিছুটা নিচে নামিয়ে দলের ভারসাম্য রক্ষা করা যেতে পারে, এ কথাও তিনি জানান।
টানা এই পরাজয়ের ফলে কলকাতার প্লে-অফে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। সমর্থকদের অসন্তোষ আর মাঠে ধারাবাহিক ব্যর্থতায় ম্যানেজমেন্ট দিশাহীন—তারা শেবাগের কারিগরি পরামর্শগুলো গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। না হলে এই আসরটি কলকাতার জন্য কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে বড় ধরণের ব্যর্থতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে নাইট রাইডার্স ফ্যানদের মধ্যে আবারও টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে।














