ঢাকা | সোমবার | ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন: প্রথম দফায় ২২,০৬৫ কৃষক পাচ্ছেন ‘কৃষক কার্ড’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখে প্রি-পাইলট পর্যায়ের ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করবেন। প্রথম দফায় মোট ২২,০৬৫ জন কৃষক, মৎস্যচাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষকদের এই কার্ড দেওয়া হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রি-পাইলট পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এই প্রি-পাইলট ব্লকগুলোর মধ্যে আছে: পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক এবং জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।

তিনি আরও জানান, কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমটি প্রি-পাইলট, পাইলট ও দেশব্যাপী বাস্তবায়ন—এই তিন ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রি-পাইলট পর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল মোট ২২,০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৭১ জন, যা মোটের প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ। তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছে ফসল উৎপাদনকারী, মৎস্যজীবি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিরা।

মন্ত্রী জানান, প্রি-পাইলট পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রতি বছর ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। প্রি-পাইলট ও পাইলট পর্ব সফল হলে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি সেবা চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দেশে মোট প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক রয়েছেন।

কৃষক কার্ডকে একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, এটি কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি হ্রাস করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।