ঢাকা | রবিবার | ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বাজার সিন্ডিকেট রোধে সিলেটে সরকারি ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন

বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দমন ও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেই সিলেটে প্রথমবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন করা হয়েছে। লক্ষ্য ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ ও তাজা খাদ্য সরবরাহ করা এবং উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ উদ্যোগটি সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ পরিকল্পনায় নেয়া হয়েছে; স্লোগান— ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’।

প্রধানত প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এই হাট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে তারা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তুলতে পারবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্বোধনী ভাষণে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা নতুন পদক্ষেপ করছে। তিনি বললেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য উৎপাদনস্থল থেকে বাজারে পৌঁছাতে চার–পাঁচ দফায় হাতবদল হয়, যার ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ে। ‘কৃষকের হাট’ মধ্যবর্তী স্তরগুলো কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তার জন্য একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। সরাসরি সংযোগের ফলে মূল্য স্থিতিশীল হবে এবং বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে। প্রশাসনের কড়া নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অবাঞ্ছিত অতিরিক্ত খরচের সুযোগ থাকবে না।

সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অধীনে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে; টিসিবি বিপর্যয়কারক মূল্য ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর কাউন্টার ব্যালান্স হিসেবে কাজ করবে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে মন্ত্রী সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এসব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সভাপতিত্ব করেন। বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা‑উন‑নবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বলা হয়, প্রতিদিন সকালেই নির্ধারিত স্থানে এই হাট পরিচালিত হবে।

উদ্যোগটি সফল হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা পণ্য কেনার সুযোগ পাবে — যা স্থানীয় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।