দীর্ঘ বিরতির পর চোট কাটিয়ে ফিরে এসে আবার নতুন আঘাতে পড়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। মাংসপেশির সমস্যার কারণে প্রায় ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার পর গত রোববার সিরি-আ ম্যাচে ইন্টার মিলানের হয়ে রোমার বিরুদ্ধে ৫-২ জয়ে নেমে জোড়া গোল করে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন তিনি। তবে আনন্দ বেশিদিন টেকেনি—পরের দিন অনুশীলনের সময় হাঁটুর নিচের মাংসপেশিতে শারীরিক সমস্য়া অনুভব করে পুনরায় মাঠের বাইরে চলে যান লাউতারো, যা আর্জেন্টিনা ও ইন্টার উভয় শিবিরেই নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইন্টার মিলান ক্লাব সদর দফতর জানিয়েছেন, নিম্নগতির পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য খেলোয়াড়টিকে এখন উদ্বায়ী নজরে রাখা হবে এবং চিকিৎসা দল বিস্তারিত পরীক্ষা চালাচ্ছে। ইতালীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই চোটের কারণে লাউতারোকে অন্তত দুই সপ্তাহ আরও বাইরে থাকতে হতে পারে, ফলে ক্লাবের সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচগুলো—কোমো ও কাগলিয়ারির বিরুদ্ধে—তাঁর অভাবে খেলতে হবে। বর্তমানে ৩১ ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে লিগটেবিলে শীর্ষে থাকা ইন্টার এই ব্যবধানে বড় এক ধাক্কা পেতে পারে।
অনেকের দেখা মতে, লাউতারোর শরীরের সতর্কতার লক্ষণগুলো আগেই দেখা যাচ্ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে বোডো/গ্লিমটের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারির ম্যাচের পর থেকেই তিনি অস্বস্তি অনুভব করছিলেন, এবং সেই সমস্যা তাকে দীর্ঘ বিশ্রামে পাঠিয়েছিল। রোমার বিরুদ্ধে ফেরার ম্যাচেও তাকে পুরো ৯০ মিনিট খেলানোর ঝুঁকি নেননি কোচ; ম্যাচের ৬০ মিনিটে বদলি করে নেওয়ার সময় তাঁর বাঁ-পায় বরফের প্যাক দেখা যায়—তাই কিছু অংশেই বোঝা গিয়েছিল পেশি পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
ব্যক্তিগত ও ক্লাব পর্যায়ের উদ্বেগ ছাড়াও লাউতারোর চিকিৎসা পরিস্থিতি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বকাপের শুরুতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি—২০২৬ বিশ্বকাপ আসন্ন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে টুর্নামেন্ট শুরু করবে; এমন সময় দলটির প্রধান ফরোয়ার্ডের বারবার চোট নেমে আসা কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনায় সঙ্কট তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে ট্রেডিশনাল আঘাতে এক অনূর্ধ্ব খেলোয়াড় ছিটকে যাওয়ায় আক্রমণভাগে কিছু অস্থিরতা রয়েছে, তাই লাউতারোর অনুপস্থিতি দলীয় পরিকল্পনায় বড় ছাপ ফেলতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও ইন্টার—উভয় দলের চিকিৎসকরা এখন লাউতারোর সুস্থতার দিকে তীব্র নজর রাখছেন। বিশ্বকাপের আগে তাঁকে শতভাগ ফিট অবস্থায় ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য। যদি এইচাগাতি দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণ শর্তে ফিরতে না পারেন, তবে স্কালোনিকে বিকল্প আক্রমণ পরিকল্পনা সাজাতে হবে। ফুটবলভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন লাউতারোর দ্রুত আরোগ্য কামনায়—তাতে করে বিশ্বমঞ্চে আবারো আলবিসেলেস্তে জার্সিতে তাঁর তীব্র উপস্থিতি দেখা যাবে।














