ঈদের পর গত ২০ দিনে সোনালি মুরগির কেজি প্রতি দাম প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ; আর গত এক মাসে বাড়তি ঊর্ধ্বগতি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
ব্যবসায়ীরা বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকট প্রধানত দামের এই চড়ার কারণ। তবে খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা উল্টো অভিযোগ করেন—বড় করপোরেট হাউসগুলোর কৌশল ও বাচ্চা পোল্ট্রি ও ফিডের দাম বাড়ায় তাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের মতো বেড়ে গেছে, ফলে বাজারে মুরগি সরবরাহে চাপ পড়েছে এবং দাম বাড়ছে।
একজন খামারি বলেন, “ফিডের দাম তিন-ছয় মাস পরপর দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা করে বাড়ে। এতে খামারের খরচ কমাতে পারছি না।”
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদারও বলেন, “বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর একপেশে কৌশলের ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হওয়ার পথে। ন্যায্য দর না পেলে অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবার মতো অবস্থায়।”
বাজার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা ব্যবসায়ীরা খামারিদের কাছ থেকে সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন। কিন্তু বাড়তি পরিবহন খরচ ও চাহিদা-মত পণ্য মেলায় না থাকায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তা ৪০০ টাকার উপরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ক্রেতারা বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের জন্য সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ও দুর্বল নজরদারি থাকায় অসমতা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলেই চাহিদা ও যোগানের অনিশ্চয়তার মধ্যেই দাম ওঠানামা করছে।
পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে বাজারের ট্রান্সপারেন্সি বাড়ানো, পর্যাপ্ত তদারকি নিশ্চিত করা এবং খামারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—তবে এ কাজে শিল্প, প্রশাসন ও খামারি সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।














