ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আনচেলত্তি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের কোচ

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) কার্লো আনচেলত্তিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তিনি ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেলেসাওদের ডাগআউট সামলাবেন। ইএসপিএন ব্রাজিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দির্ঘ আলোচনার পরে দুই পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং চুক্তির আনুষ্ঠানিক খসড়া ইতিমধ্যেই আনচেলত্তির কাছে পাঠানো হয়েছে।

নতুন চুক্তি অনুযায়ী আনচেলত্তির বার্ষিক বেতন নির্ধারিত হয়েছে ১০ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ১৩০ কোটি টাকার সমান এবং এটি ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে কোনো কোচের জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। কেবল প্রধান কোচ হিসেবেই নয়, আনচেলত্তির বিশেষ অনুরোধে তাঁর কারিগরি স্টাফকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে; দীর্ঘদিনের সহকারী পল ক্লেমেন্ট, ফিটনেস কোচ মিনো ফোলকো এবং পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট সিমোন মোন্তানারোর বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সিবিএফ জানিয়েছে যে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি দৃঢ় ও স্থায়ী কোচিং প্যানেল গঠন করা।

চুক্তিটি আইনি জটিলতা এড়াতে এবং স্থানীয় শ্রম আইন মেনে চলার জন্য দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়টি দুই বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ২৪ মাসের জন্য নবায়নযোগ্য হবে — ফলে আনচেলত্তি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিশ্চিত হবে।

সূত্রজানায়, গত মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের সময় সিবিএফ প্রেসিডেন্ট সামির সাউদের সঙ্গে আনচেলত্তির এক বৈঠক হয়; সেদিকথায় তিনি মৌখিকভাবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সম্মতি দিয়েছিলেন এবং এখন সেটি আনুষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।

আনচেলত্তি বর্তমানে পারিবারিক ছুটি কাটাতে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে রয়েছেন। জানানো হয়েছে, তিনি সেখান থেকেই ডিজিটালি এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

সিবিএফ আনচেলত্তির কৌশলগত নেতৃত্বে ব্রাজিলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার বড়ো প্রত্যাশা রাখছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৬ ও ২০৩০—দুইটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এক হাতে তুলে দিয়ে তারা স্থায়িত্ব ও ফলপ্রসূতা প্রত্যাশা করছে। ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন তিনি ব্রাজিলকে কাঙ্খিত ষষ্ঠ শিরোপা বা ‘হেক্সা’ ফিরিয়ে আনতে পারবেন। সামগ্ৰিকভাবে এই চুক্তিটিকে ব্রাজিল ফুটবলের নতুন এক অধ্যায়ের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।