ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুতি দাবি জোরালো

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মাঝেই দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটেছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর থেকে চাপ কমেনি। বরং কংগ্রেসের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ (এওসি) আবারও ট্রাম্পকে অভিশংসন করে ক্ষমতাচ্যুত করার জোরাল দাবি তুলেছেন। তিনি বলছেন, চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি এবং বর্তমান পরিস্থিতির কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বিবৃতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা বাড়ার পটভূমিতেই এই পদক্ষেপ। বিশেষত এক বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পরে আবহাওয়া আরও উত্তপ্ত হয়—ট্রাম্প সেখানে এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা একটি সভ্যতা নষ্ট করার সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এওসি সেটিকে ‘গণহত্যা উস্কানি’ ও আন্তর্জাতিক আইনের ঘোরপাক্কল লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে সাধারণ মানুষের ধ্বংস করার হুমকি দেয়া অমানবিক ও আইনবিরুদ্ধ।

ট্রাম্পের যুদ্ধোন্মুখ মনোভাব শুধু আন্তর্জাতিক স্ততেই নয়, দেশের অভ্যন্তরেও তাকে অজনপ্রিয় করেছে, বলে ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে জড়িয়ে পড়ার ফলে অর্থনীতি ও জনকল্যাণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে—অর্থনীতিবিদদের অভিমত মতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেশকে আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে ফেলেছে। সাধারণ মানুষের করের অর্থ সরাসরি জনকল্যাণের পরিবর্তে যুদ্ধ ও নিরাপত্তায় ব্যয় করার ফলে জনরোষ প্রকট হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্পের শাসনশৈলী এবং মূল্যায়নভিত্তিক আইন প্রণয়নও অসন্তোষ তীব্র করেছে। গত মাসে আয়োজিত ‘নো কিংস’ আন্দোলনে আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী প্রায় আট মিলিয়ন মানুষ রাজপথে নেমে ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করে—এর প্রতিফলন হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ঘটমান উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।

এওসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নিজের পোস্টে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট সরাসরি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার হুমকি জানিয়েছেন এবং সেই হুমকি এখনও সক্রিয় আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্মম ও অহেতুক আচরণ বিশ্বশান্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাই মন্ত্রিসভা বা কংগ্রেস—যে কোনো উপায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা অপরিহার্য, তার কথা বলেছেন তিনি।

ওকাসিও-কর্তেজ একা নন—তার সঙ্গে ডজনখানেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাও ট্রাম্পকে অপসারণের পক্ষে সায় দিয়েছেন। যদিও দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে, বিরোধীরা বলছেন ট্রাম্পের হাতে নিউক্লিয়ার ক্ষমতা বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ থাকা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। তাদের অভিমত, প্রেসিডেন্টের মানসিক অস্থিরতা ও অসাবধান সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় বিশ্বের দিকে বড় ধরনের সংঘাত টেনে আনতে পারে। সেজন্য যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তারা অভিশংসন ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অটল।

সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন বর্তমানে উত্তপ্ত এক রঙ্গিণ পরিপ্রেক্ষিত গড়ে তুলেছে। দেশব্যাপী রাজনৈতিক বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় আগামী সময়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও নিরাপত্তা নীতি কেমন হবে—সেটি এখন সর্বহাদের নজরে।