ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বুমরাহকে চ্যালেঞ্জ, ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীর ছক্কা–বৃষ্টি; রাজস্থান উড়িয়ে দিল মুম্বাইকে

গুয়াহাটির বারসাপারা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিতে দেরিতে শুরু হওয়া হাইভোল্টেজ আইপিএল ম্যাচে ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশী জাদু দেখিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে পরাস্ত করলেন। জাসপ্রিত বুমরাহর মতো বিশ্বসেরা পেসারের সামনে বুকচিতিয়ে লড়াই করে সূর্যবংশী যে атак করে তা দর্শক ও বিশ্লেষকদের চোখে নতুন করে বাজিমাত করল।

আকাশ মেঘলা ও বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ২০ ওভারের বদলে ১১ ওভার করে অনুষ্ঠিত হয়। টস হেরে ব্যাটিং করা রাজস্থান রয়্যালস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়। বাঁহাতি তরুণ বৈভব সূর্যবংশী ইনিংসের আগুন ধরিয়ে দেন। কম ওভারেই দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভায় যখন বল হাতে উঠেন বুমরাহ, তখনই প্রথম বলে লং-অনের ওপর থেকে ছক্কা মেরে গ্যালারি দমিয়ে দেন সূর্যবংশী। আশ্চর্যজনকভাবে বুমরাহও সেই বল দেখে খানিক অবাক হয়ে হাসেন।

এরই মাঝে বুমরাহের এক ওভারে একটি চতুর স্লোয়ার ডেলিভারিকে নিখুঁতভাবে পরখ করে সূর্যবংশী মিডউইকেটে আরেকটি বিশাল ছয়নালেন। ওই ওভার থেকেই ১৪ রান তুলে রাজস্থান দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। ওপেনিং পার্টনার যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে জুটি গড়ে মাত্র ২.৪ ওভারেই সূর্যবংশী ৫০ রান যোগ করেন, যা মুম্বাই বোলিংয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি করে।

বৈভব মাত্র ১৪ বল খেলে ৩৯ রানে ফিরে যান — ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা এবং একটি চার। শার্দুল ঠাকুরের করা একটি স্লোয়ার ডেলিভারিতে ডিপে ক্যাচ দিয়ে খেলার বাইরে যান তিনি; তবে ততক্ষণে রাজস্থান ইতোমধ্যেই বড় একটি ভিত্তি গড়ে ফেলেছে।

রাজস্থান নির্ধারিত ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫০ রান সংগ্রহ করে। ১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বাই শুরু থেকেই ধাক্কায় পড়ে। রাজস্থানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে মুম্বাই ১১ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১২৩ রানে থেমে যায়। ফলে রাজস্থান জয় পায় ২৭ রানে এবং সঞ্জু স্যামসনের দল মাঠ ছেড়ে যায় আনন্দে ভাসিয়ে।

বিশ্বসেরা বোলার বুমরাহর বিরুদ্ধে ১৫ বছরের এক কিশোরের এই সাহসী ব্যাটিং এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার বিষয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সূর্যবংশীর ইনিংসটি আইপিএলের ইতিবাচক ও সাহসী নতুন অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।