মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা চলাকালীন বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘‘ক্যাপ্টেন’’ তারেক রহমান। তিনি জানান, আন্দোলনে ছাত্র-জনতা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়েছিল—এটি কেউ অস্বীকার করতে পারে না—তবু ট্রফি আনতে আমরা কারও কাছে যাইনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘একজন দলের নেতারা বাইরে (সংসদে নয়) বলছেন আন্দোলনে ছাত্র-জনতা খেলেছে আর ট্রফি বিএনপি নিয়ে বসে আছে। তবে ক্যাপ্টেন কে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব কোন দলের ছিল এবং কোন নেতার অংশগ্রহণ তা স্পষ্ট করেছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরাও আন্দোলনে ছিলাম—এটি কেউ মানতে বাধ্য। কিন্তু একজন ক্যাপ্টেন থাকে, যে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন। এজন্যই এ দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে এবং সেই নির্বাচনের ফলে বিরোধীদল ও আমরা আজ একটি ঐতিহাসিক সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি।’’
রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, ‘‘মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাই—এমনকি বারবারই জানাতে চাই—কারণ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছে আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেছি এবং গণতন্ত্রের মা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরেছি।’’
তিনি যোগ করেন, ‘‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন—যেমন আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও ভোটচোর বলা—এগুলি যখন সংসদে উচ্চারিত হয়েছে, তখন এই কৃতিত্ব যাওয়া উচিত বিএনপির এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানেরই।’’
সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে সব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড উল্লেখযোগ্য; এটি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন এবং এখন এটি দেশের গৃহকর্তা ও নারীদের মধ্যে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে কৃষক কার্ডের কথা বলা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই দেশের কৃষকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মীর শাহে আলম জানান, এই কৃষক কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ১৪ এপ্রিল — পয়লা বৈশাখে — টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে।












